বিশ্বগ্রামের সুবিধা (Facilities of Global Village):

বিশ্বগ্রামের ফলে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণার ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোও আজ তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে তাদেরকে সমপর্যায়ে ভাবতে শুরু করেছে। তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের সাথে আন্তর্জাতিক পরিবহন, যোগাযোগ, ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহারের ফলে মানুষ বিশ্বগ্রামের সুবিধা পাচ্ছে। আধুনিক বিশ্বে প্রায় প্রতিটি কাজেই আমরা বিশ্বগ্রামের সুবিধা পাচ্ছি। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সুবিধা হলো-

• পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সাথে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে।
কাজের দক্ষতা ও গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় রোধ হচ্ছে।
সকল ধরনের ব্যবস্থাপনার খরচ কমে যাওয়ায় ই-গর্ভনেন্স বাস্তবায়ন সহজ হয়েছে।
জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংরক্ষিত হচ্ছে।
ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে এবং লেনদেন সহজতর হচ্ছে।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান হচ্ছে এবং ই-ব্যাংকিং সেবার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
ঘরে বসেই অনলাইনে কেনাকাটার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে।
• টেলিমেডিসিন ব্যবস্থায় রোগী ডাক্তারের সাথে সরাসরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছে। গবেষণা ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছবি, অডিও, ভিডিও, এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি আপলোড ও ডাউনলোড করা যাচ্ছে।
টেলিকনফারেন্সিং ও ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
ই-লার্নিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিশ্বের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সেবা গ্রহণ করতে পারছে।
অনলাইনে পত্রিকা পড়া, ব্লগ-এ লেখালেখি এবং মতামত প্রদানের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়।
মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপন করা সহজ হয়েছে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়।

বিশ্বগ্রামের অসুবিধা (Disadvantages of Global Village): অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো বর্তমানে বিশ্বগ্রামের সুবিধার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত হুমকি ও বাধার সম্মুখীন হচে বিশ্বযামের প্রভাবে যন্ত্রপাতি ও আধুনিকায়নের ফলে এসব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য লোকসানের মধ্যে পড়ছে। তাছাড়া শিল্প কারখানায় প্রতিনিয়ত আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অতিরিক্ত পুজি বিনিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বগ্রামের উল্লেখযোগ্য অসুবিধা বা নেতিবাচক দিকগুলো হলো-

ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যাকিং এর মাধ্যমে গোপনীয় তথ্য চুরি হচ্ছে।
সাইবার আক্রমণ সংঘটিত হচ্ছে।
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে তথ্য চুরি ই-কমার্স পদ্ধতিটিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
সহজেই গুজব, মিথ্যা এবং বানোয়াট সংবাদ ছড়িয়ে দাঙ্গা-ফ্যাসাদের মাধ্যমে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিশ্বগ্রামের অবাধ প্রতিযোগিতায় স্বল্পোন্নত দেশগুলো উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবাধ তথ্য প্রবাহ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ডিজিটাল ডিভাইড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অদক্ষরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে।
ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি সহজলভ্য হওয়ায় যুব সমাজে সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে।


কর্মসংস্থান (Employment):

Comments