১.৩ কর্মসংস্থান (Employment):
সৃষ্টির আদি হতেই মানুষ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তার জীবিকা নির্বাহ করে চলে আসছে। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বিশ্বব্যাপি কর্মসংস্থানের এক উন্মুক্ত বাজারের প্রসার ঘটেছে। কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের কাজের ধরণ, সময় ইত্যাদিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।
কাজের জন্য এখন মানুষকে একদেশ হতে অন্য দেশে যাওয়ার দরজা খুব সহজেই খুলে দিচ্ছে এই বিশ্বগ্রাম। আর ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি তাদের জীবিকা নির্বাহ করে চলেছে, যা বিশ্বগ্রামের অন্যতম অবদান। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি দেশের বেকারত্ব সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব।
অনলাইন নির্ভর নানা কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনই হচ্ছে অনলাইন ইনকাম। অনলাইন ইনকামের কিছু পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হল-
১) ভাটা এন্ট্রি উপার্জন ব্যবস্থা: মূলত অনলাইন ইনকামের ক্ষেত্রে ডাটা এন্ট্রি সব ধরনের কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত। দক্ষ কিংবা অদক্ষ যেকোন ধরনের কম্পিউটার ব্যবহারকারী ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে অনলাইন ইনকামের বাড়তি উপায় বা পদ্ধতি তৈরি করতে পারেন।
ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে অর্থ আয়ের কিছু নমুনা নিচে আলোচনা করা হল-
১. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহকৃত ডাটা শীটের মাধ্যমে এন্ট্রি দেয়া।
২. বিভিন্ন ধরনের ওয়েব সাইট হতে ডাটা কালেকশন বা সংগ্রহ করে সেগুলো এন্ট্রি করা।
৩ . ক্যাপচা এন্ট্রি কিংবা সংখ্যার সমন্বয়ে প্রাপ্ত ছবি অনুযায়ী ডাটা প্রবেশ করানো।
৪. প্রয়োজনীয় বিষয় ভিত্তিক তথ্য সার্চ করে এন্ট্রি করা।
৫ . অডিও অথবা ভিডিও ট্রান্সক্রিপশন করে নির্দিষ্ট ভাষায় টাইপ করে দেওয়া।
৬ . বিজ্ঞাপন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করে তা এন্ট্রি করা।
৭. আদমশুমারীর কাজে নানা তথ্য এন্ট্রি করা।
৮. ভাষা অনুবাদক হিসেবে কাজ করা।
ডাটা এন্ট্রির জন্য কিছু ওয়েব সাইটের ঠিকানা নিচে প্রদান করা হল-
https://www.upwork.com
https://www.freelancer.com.bd/
https://remote.co/remote-jobs/
https://www.fiverr.com/
এছাড়া Google সার্চ করে কিংবা বিভিন্ন ব্লগে সার্চের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রির সাইটের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
২) পি.টি.সি (PTC): পেইড টু ক্লিক (Paid To Click) অর্থাৎ মাউসে ক্লিক করেই আয় করা যাবে অর্থ, অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে সহজতর উপায় হল PTC। এই পদ্ধতিতে উপার্জনের জন্য নির্দিষ্ট সাইটে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে।
৩) পি.টি.এস (PTS) পেইড টু সাইন আপ (Paid to Sign up) ধরনের ওয়েব সাইটে নির্দিষ্ট উপায়ে রেজিস্ট্রেশন
করার পর সেই সাইটের মাধ্যমে সাইন আপ করে বিভিন্ন ইউজার আইডি খুলে দিয়ে অর্থ উপার্জন করা হয়।
৪) অ্যানিমেশন আউটসোর্সিং: বর্তমান বিশ্বে অ্যানিমেশনের জয়জয়কার শোনা যাচ্ছে। একজন দক্ষ এনিমেটর হতে হলে প্রয়োজন কিছু সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়। অনলাইন উপার্জন কিংবা আউটসোর্সিং কাজের
মধ্যে সৃষ্টিশীল ও আনন্দপূর্ণ এই কাজটি করতে প্রয়োজন সৃজনশীলতা, ধৈর্য, চেষ্টা এবং চিন্তাশক্তির সমন্বয়।
৫) অনলাইন ডেভলপিং: বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা জেনে অনলাইনে নানা প্রতিষ্ঠানের হয়ে ঘরে বসেই উচ্চ বেতনে চাকুরি করা সম্ভব। অনলাইন ডেভেলপিং করে ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করা যায়।
৬) ফ্রিল্যান্সিং: ফ্রিল্যান্সার হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি সাইট বা প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিবদ্ধ হওয়া ছাড়াই কাজ করে থাকেন। গতানুগতিক কোন সময় সীমা বাঁধা থাকে না এই কাজে। ফ্রিল্যান্সার তার সুবিধামত সময়ে কাজ সম্পন্ন করে অর্থ আয় করে থাকেন।


Comments