চার্লস ব্যাবেজ (জন্ম: ডিসেম্বর ২৬, ১৭৯১- মৃত্যু: অক্টোবর ১৮, ১৮৭১। যুক্তরাজ্য) সংক্ষিপ্ত পরিচয়: একজন ইংরেজ যন্ত্র প্রকৌশলী, গণিতবিদ, আবিষ্কারক ও দার্শনিক।। তাঁকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক হিসাবে অভিহিত করা হয়। অবদান। আধুনিক কম্পিউটার তৈরীতে তার ভূমিকা অপরিসীম। ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে দুইটি গণনা যন্ত্র তৈরী করেন। ১৮৪২ সালে তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি তাঁর ইঞ্জিন সম্পর্কে বক্তব্য দেন। ১৯৯১ সালে তাঁর বর্ণনা অনুসারে লন্ডনের বিজ্ঞান জাদুঘরে একটি ইঞ্জিন তৈরি করা হয়।
জর্জ বুল (জন্ম। নভেম্বর ২, ১৮১৫- মৃত্যু: ডিসেম্বর ৮, ১৮৬৪: যুক্তরাজ্য) সংক্ষিপ্ত পরিচয়। জর্জ বুল ছিলেন একজন ব্রিটিশ গণিতবিদ ও দার্শনিক। যাকে গাণিতিক যুক্তিবিজ্ঞানের (Mathematical Logic) জনকদের একজন হিসাবে গণ্য করা হয়।
অবদানঃ ১৮৫৪ সালে তাঁর প্রধান কাজ Investigation of Laws of Thought বের হয়। তিনি যে প্রকার প্রতিকী যুক্তিবিজ্ঞান নির্মাণ করেন, তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বুলিয়ান বীজগণিতের গবেষণা শুরু হয়। বর্তমান সময়ে কম্পিউটিং এবং বীজগণিতে এই বুলিয়ান বীজগণিতের গুরুত্ব রয়েছে। বুলের গবেষণাকর্ম বহুদিন যাবত যুক্তিবিদরা ব্যতীত অন্যদের কাছে অপরিচিত ছিল। বুলীয় বীজগণিতের ব্যবহারিক কোনো প্রয়োগ বহুদিন যাবত অনাবিষ্কৃত ছিল। বুলের মৃত্যুর ৭০ বছর পরে কদ শ্যানন ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান এ অধ্যয়নরত অবস্থায় দর্শন বিষয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে বুলিয়ান বীজগণিতের খোঁজ পান। পরবর্তীতে ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে পড়ার সময় শ্যানন তাঁর মাস্টার্সের থিসিসে দেখান, কীভাবে বুলিয়ান বীজগণিতের মাধ্যমে টেলিফোন রাউটিং সুইচের তড়িৎ যান্ত্রিক রিলেসনসমূহের নকশা সঠিকভাবে করা যায়। তিনি আরো দেখান, এধরনের বর্তনী দিয়ে বুলিয়ান বীজগণিতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তড়িৎ বর্তনী দিয়ে যুক্তিবিদ্যায় গগনা হলো আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি।
গুগলিয়েলমো মার্কোনি (জন্ম: এপ্রিল ২৫, ১৮৭৪- মৃত্যু: জুলাই ২০, ১৯৩৭; ইতালি) সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ গুগলিয়েলমো মার্কোনি ছিলেন ইতালীয় প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক।
তিনি বেতার যন্ত্রের সম্প্রচার পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি একটি ব্যবহারিক রেডিওগ্রাফ পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন। এই উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করেই বিশ্বের অসংখ্য ব্যবসায়িক ও প্রাযুক্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। ১৯০৯ সালে কার্ল ফের্ডিনান্ড ব্রাউনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বেতার সম্প্রচার পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপনের জন্যই তাদেরকে এই পুরস্কার দেয়া হয়।
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু (জন্ম: নভেম্বর ৩০, ১৮৫৮- মৃত্যু: নভেম্বর ২৩, ১৯৩৭। বাংলাদেশ)
সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একজন বাঙালি পদার্থবিদ, উদ্ভিদবিদ ও জীববিজ্ঞানী এবং প্রথম দিকের একজন কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা।
অবদানঃ তাঁর গবেষণা উদ্ভিদবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে তোলে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা করে। ১৮৫৯ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য প্রেরণে সফল হন। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে।
মার্টিন কুপার (জন্ম: ডিসেম্বর ২৬, ১৯২৮: যুক্তরাষ্ট্র)
সংক্ষিপ্ত পরিচয়: মার্টিন কুপার আমেরিকার ইলিনয় রাজ্যের শিকাগোতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত মার্কিন আবিষ্কারক।
অবদান: তারবিহীন টেলিফোন শিল্প হিসেবে মোবাইল ফোনের পথিকৃৎ হিসেবে বৈশ্বিকভাবে পরিচিত হয়ে আছেন। এ শিল্পে তাঁর সর্বমোট এগারোটি মেধাস্বত্ব রয়েছে। বর্তমান সময়ের বেতার তরঙ্গ ব্যবস্থাপনায় অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আবিষ্কারক তিনি।
টিম বার্নার্স-লি (জন্ম: জুন ৮, ১৯৫৫: যুক্তরাজ্য)
সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ টিম বার্নার্স-লি বা স্যার টিমোথি জন "টিম" জন বার্নার্স-লি এবং TimBL নামেও ব্রিটিশ পদার্থবিদ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, যিনি পরিচিত। তিনি পেশায়। MIT অধ্যাপক, এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়ামের পরিচালক অবদান। বিশ্বের সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক www (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব) এর সূচনা করেন। তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা।
ডেনিস রিচি (জন্ম: সেপ্টেম্বর ৯, ১৯৪১- মৃত্যু: অক্টোবর ৮, ২০১১; যুক্তরাষ্ট্র)
সংক্ষিপ্ত পরিচয়। ডেনিস ম্যাক এলিস্টেয়ার রিচি একজন মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। নামের তিনটি অংশের আদ্যাক্ষর নিয়ে তিনি DMR নামে পরিচিত ছিলেন। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর জনপ্রিয় সি প্রোগ্রামিং ভাষার স্রষ্ঠা হিসাবে তার খ্যাতি ।
অবদান: বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা এবং ইউনিক্স অপারেটিং তৈরিতে তার অবদান রয়েছে। ১৯৮৩ সালে এসিএম থেকে তিনি টুরিং পুরস্কার, ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইই) প্রবর্তিত আইইই রিসার্চ ভব্লিউ হামিং পদক লাভ করেন এবং ১৯৯৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটনের নিকট থেকে আমেরিকার জাতীয় প্রযুক্তি পদক (National Medal of Technology) গ্রহণ করেন। সি প্রোগ্রামিং ভাষার উদ্ভাবন এবং কেন থম্পসনের সঙ্গে ইউনিক্স উন্নয়নে অবদান রিচিকে আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের অগ্রনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এপ্লিকেশন ও অপারেটিং সিস্টেম এবং এমবেডেড সিস্টেম উন্নয়নে ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি সি প্রোগ্রামিং ভাষা অন্যান্য প্রোগ্রামিং ভাষাকেও প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছে। একই ভাবে আধুনিক কম্পিউটিং-এর বিকাশে ইউনিক্স সিস্টেমের অবদান অনস্বীকার্য।
লরেন্স "ল্যারি" পেইজ (জন্ম: মার্চ ২৬, ১৯৭৩: যুক্তরাষ্ট্র)
সংক্ষিপ্ত পরিচয়: লরেন্স "ল্যারি" পেইজ একজন আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং ইন্টারনেট উদ্যোক্তা।
অবদান: গুগলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৮ সালে পেইজ সের্গেই ব্রিন এর সাথে প্রতিষ্ঠা করেন সার্চ ইঞ্জিন গুগল। ২০ জানুয়ারি, ২০১১ সালে তাকে গুগলের প্রধান নির্বাহী ঘোষণা দেওয়া হয় এবং তিনি ৪ এপ্রিল, ২০১১ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
স্টিভ জবস (জন্ম: ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৫৫- মৃত্যু: অক্টোবর ৫, ২০১১; যুক্তরাষ্ট্র) সংক্ষিপ্ত পরিচয়: স্টিভেন পল জবস যুক্তরাষ্ট্রের একজন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। তাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়।
অবদান: বিল গেটস আর ওয়াল্ড ডিজনির নাম বিবেচনায় রেখে বলা যায় বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রগতিশীল, প্রভাবশালি, প্রতিভাবান আর সফল প্রযুক্তির অধিকারী ছিলেন স্টিভ জবস। তিনি স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েন-এর সাথে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে অ্যাপল কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও সাবেক প্রধান কর্মকর্তা। তিনি Picture Animation Studios-এরও প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ১৯৮৫ সালে অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের সদস্যদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে তিনি অ্যাপল ইনকর্পোরেশন থেকে পদত্যাগ করেন এবং নেক্সট কম্পিউটার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটার নেক্সট কম্পিউটারকে কিনে নিলে তিনি অ্যাপলে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৯৫ সালে টয় স্টোরি নামের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন। এছাড়াও তিনি আইফোনের জনক হিসেবে খ্যাত।
উইলিয়াম হেনরী গেটস বা বিল গেটস (জন্ম: অক্টোবর ২৮, ১৯৫৫। যুক্তরাষ্ট্র)
সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ উইলিয়াম হেনরী গেটস বা বিল গেটস মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান, সাবেক প্রধান সফটওয়্যার নির্মাতা এবং সাবেক সিইও। একাধারে ১৩ বছর যাবৎ তিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি ছিলেন এবং বর্তমানেও রয়েছেন। অবদান: ১৯৮১ সালে আইবিএম কোম্পানি তাদের অপারেটিং সিস্টেম তৈরির দায়িত্ব দেয় মাইক্রোসফটকে। এমএস ডস এবং উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম বিকশিত হয় মাইক্রোসফট এর দ্বারা।
মার্ক জুকারবার্গ (জন্ম: মে ১৪, ১৯৮৪: যুক্তরাষ্ট্র) সংক্ষিপ্ত পরিচয়: মার্ক জুকারবার্গ একজন আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভেলপার। তার পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ। যার আসল পরিচিতি হল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেইসবুক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। অবদান: জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট। জুকারবার্গ এবং তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে ২০০৪ সালে এটি একটি ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন যখন তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই জুকারবার্গ টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বছরের সেরা ব্যক্তিত্বরূপে নির্বাচিত হয়েছেন।
মার্শাল ম্যাকলুহানঃ (Marshall Mcluhan) কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক মার্শাল ম্যাকলুহান সর্বপ্রথম গ্লোবাল ভিলেজ কথাটি ব্যবহার করেন। ম্যাকলুহান ১৯১১ সালের ২১ জুলাই কানাডাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি "দি মিডিয়াম ইজ দি মেসেজ" (the medium is the meassuage) এবং "গ্লোবাল ভিলেজ" (global village) এর উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন। তিনি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (world wide web) বা ইন্টারনেট অবিষ্কারের পায় ৩০ (ত্রিশ) বছর পূর্বেই এ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। ম্যাকলুহান ১৯৬২ এবং ১৯৬৪ সালের তার প্রকাশিত দুইটি গ্রন্থ "The Gutenberg: The Making of Typographic Man" এবং "Understanding Media" তে গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম এর ধারণা দেন।
জন ম্যাকার্থিঃ (John Mc Carthy) জন ম্যাকার্থি একজন আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রোগ্রামিং ভাষা লিম্পের জনক। তিনি "আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' নামক পরিভাষার প্রচলন করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি গণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫১ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ডার্টমাউথ কলেজ ও ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে শিক্ষকতা করার পর ১৯৬২ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ২০০০ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এখানে অধ্যাপনা করেন।
রিচার্ড ফাইনম্যান (Richard Feynman)ঃ রিচার্ড ফাইনম্যান একজন নোবেল বিজয়ী মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি তার কোয়ান্টাম বলবিদ্যার পাথ ইন্টিগ্রাল ফর্মুলেশন, কোয়ান্টাম তড়িৎ গতিবিজ্ঞান তত্ত্ব এবং অতিশীতলকৃত তরল হিলিয়ামের প্রবাহমানতা ক্রিয়াকৌশল ব্যাখ্যা করেছেন ও কণা পদার্থবিজ্ঞানে তার কাজের জন্য (তিনি প্যাট্রন মডেল প্রস্তাব করেন) খ্যাত। ফাইনম্যান তার বিভিন্ন বই ও লেকচারের মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করায় কাজ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৯৫৯ সালে ন্যানোপ্রযুক্তির (Nenotechnology) ওপর প্রদত্ত ভাষণ "দেয়ার্স প্লেনটি অফ রুম অ্যাট দা বটম" এবং দ্য ফাইনম্যান লেকচার্স অন ফিজিক্স। ফাইনম্যান তার আধা-আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ সিওরলি ইউ আর জোকিং, মি. ফাইনম্যান। এবং হোয়াট ডু ইউ কেয়ার হোয়াট আদার পিপল থিংক? ইত্যাদির জন্যেও খ্যাত।।
পল বার্গ (Paul Berg) পল বার্গ একজন মার্কিন প্রাণরসায়নবিদ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ১৯৮০ সালে ওয়াল্টার গিলবার্ট ও ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার এর সাথে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭২ সালে পল বার্গ বানরের ভাইরাস SV40 ও Lambda Virus এর ডি এন এ এর সংযোগ ঘটিয়ে প্রথম রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরী করেন।
ভি এ শিভাঃ (VA Shiva Ayyadurai); ভিএ শিভা একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিজ্ঞানী। ১৯৭৯ সালে হাই স্কুলে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি আন্তঃঅফিসিয়াল মেইল সিস্টেমের একটি ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ উদ্ভাবন করেন। তিনি এর নাম দেন E-mail ।
জেরন জ্যাপল লেনির (Jaron Zepel Lanier): জেরন জ্যাপল লেনির ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি প্রযুক্তির পথিকৃৎ। তিনি তাঁর সিনেমাটোগ্রাফের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি প্রযুক্তিক উন্নতি করেন।
ইসমাইল আল জাজারি (Ismail Al Jazari) একজন মুসলিম পণ্ডিত, উদ্ভাবক, ম্যাকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার, গণিতবিদ। তিনি যান্ত্রিক ডিভাইস এর বই লেখার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিতি। তিনি ১০০ এর অধিক যন্ত্রের নকশা করেছিলেন। তার অঙ্কিত নকশা থেকে রোবটিক্স এর ধারণা পাওয়া যায়।
জোসেফ ফ্রেডেরিক (Joseph Frederick Engelberger): জোসেফ একজন পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদোক্তা ছিলেন। ১৯৫০ সালে তিনিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে রোবট তৈরি করেন। তাঁকে "the father of Robotics" এবং “The Father of Space Magnetic Propulsion”-ও বলা হয়।
পাওলিন হোগোওয়েল (Paulien Hogeweg) পাওলিন হোগোওয়েল একজন ডাচ তাত্ত্বিক জীববিজ্ঞানী। ১৯৭০ সালে তিনি এবং বেন হ্যাসপার 'বায়োইনফরমেটিক্স" শব্দটি সংজ্ঞায়িত করেন।
আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (Alexander Graham Bell)ঃ আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। টেলিফোনের অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে তিনি সবচেয়ে পরিচিত। টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই তিনি শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে তাকেই টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত করা হয়। পরবর্তী জীবনে বেল আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন যার মধ্যে রয়েছে উডয়ো নৌকা এবং বিমানচালনবিদ্যা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বেল।
ভিনটন গ্রে ভিন্ট সার্ফ (Vinton Gray Cerf)। ভিটন গ্রে ভিন্ট সার্ফ একজন প্রথিতযশা আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, যাকে আধুনিক ইন্টারনেটের জনক' বলা হয়ে থাকে। তার এই উপাধিটি তিনি আমেরিকান কম্পিউটার বিজ্ঞানী রবার্ট কানের সাথে ভাগ করেছেন। তাকে ন্যাশনাল মেডেল অফ টেকনোলজি, টুরিং পুরস্কার এবং ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর সদস্যপদসহ প্রযুক্তিগত অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্ট এজেন্সিতে (ডিএআরপিএ) টিসিপি/আইপি এর প্রযুক্তি বিকশিত করতে কাজ শুরু করেন। সার্ফ গুগলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের "ডিজিট্যাল উন্নয়নের জন্য ব্রডব্যান্ড কমিশনের” একজন কমিশনারের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
উইলিয়াম ব্র্যাডফোর্ড শকলি (William Bradford Shockly)। উইলিয়াম ব্র্যাডফোর্ড শকলি ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত এবং ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক। তিনি জন বারডিন এবং ওয়াল্টার হাউজার ব্র্যাটেইনের সাথে যৌথভাবে ট্রানজিস্টর উদ্ভাবন করেন। এ কারণে তারা তিনজন যৌথভাবে ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। শকলি ১৯৫০ এবং ১৯৬০'র দশকে নতুন ধরণের নকশার মাধ্যমে ট্রানজিস্টর বাজারজাতকরণ শুরু করেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমেই মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ব ইলেকট্রনিক্স বাজারে সর্বোচ্চ খ্যাতি অর্জন করে এবং বিশ্বের প্রথম সিলিকন ভ্যালি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। শেষ জীবনে শকলি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন এবং পরবর্তীতে জিনতত্ত্বের একজন একনিষ্ঠ উপদেষ্টায় পরিণত হন।
স্যামুয়েল ফিনলে মোর্স (Samuel finely Morse): স্যামুয়েল ফিনলে মোর্স একজন আমেরিকান চিত্রশিল্পী ও উদ্ভাবক ছিলেন। পরে একজন প্রাকৃতিক চিত্র শিল্পী হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। তাঁর মধ্য বয়সে তিনি সিংগেল ওয়েব টেলিগ্রাফ সিস্টেম উদ্ভাবন করেন। স্যামুয়েলস মোর্স 'মোর্স কোর্ড (Morse Cord)' ডেভলপ করেন।
ভিক্টর ভিক হায়েজ (Victor Vic Hayes): ভিক্টর ভিক হায়েজ Delf university of technology এর একজন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো। তাঁকে 'Wi-Fi' এর জনক বলা হয়।
জেকবস্ কর্পোলিস্ হার্থজেন (Jacobus Correlis Hartsen); জেকবস্ কর্পোলিস্ হার্থজেন একজন ডাচ ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, উদ্ভাবক। তিনি Bluetooth উদ্ভাবন করেন।
অগাস্টাস ডি মর্গান (Augustus De Morgan): অগাস্টাস ডি মর্গান ভারতে জন্মগ্রহণকারী বৃটিশ গণিতবিদ ও যুক্তিবিজ্ঞানী। তিনি ডি মরগানের বিধিসমূহ (De Morgan's laws) অবিষ্কার করেন এবং গাণিতিক আরোহ পদ্ধতির (mathematical induction) ধারণা সুসংবদ্ধ (rigorus) করেন। চাঁদের ডিমরগান জ্বালামুখটি তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। ডি মরগানের উপপাদ্য গুলো কম্পিউটার বিজ্ঞানে লজিক গেইট সমাধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জর্জ বুল (George Boole): জর্জ বুল ছিলেন একজন বৃটিশ গণিতবিদ ও দার্শনিক যাকে গাণিতিক যুক্তিবিজ্ঞানের (mathematical logic) জনকদের একজন হিসাবে গণ্য করা হয়। ১৮৫৪ সালে তাঁর প্রধান কাজ Investigation of the Laws of Thought বের হয়। তিনি যে প্রকার প্রতীকী যুক্তিবিজ্ঞান নির্মাণ করেন, তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বুলিয়ান বীজগণিতের গবেষণা শুরু হয়। বর্তমান সময়ের কম্পিউটিং এবং বীজগণিতে এই বুলিয়ান বীজগণিতের গুরুত্ব রয়েছে। বুল, ডি মরগান এবং অন্যান্যদের কাজ আধুনিক বিধিগত বীজগণিতের নির্মাণে সাহায্যকারী ভূমিকা রাখে।
ডেনিস ম্যাক এলিইয়েস্টার রিচি (Dennis MacAllista Ritchie)ঃ ডেনিস ম্যাক এলিইয়েস্টার রিচি একজন মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর জনপ্রিয় সি প্রোগ্রামিং ভাষার স্রষ্টা হিসাবে তার খ্যাতি। এছাড়া অন্যান্য প্রেগ্রামিং ভাষা এবং ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরিতেও তার অবদান রয়েছে। ১৯৮৩ সালে এসিএম থেকে তিনি টুরিং পুরস্কার, ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স (AvBBB) প্রবর্তিত AvBBB রিসার্চ ডব্লিউ হামিং পদক লাভ করেন এবং ১৯৯৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটনের থেকে আমেরিকার জাতীয় প্রযুক্তি পদক (National Medal of Technology) গ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণের আগে তিনি লুসেন্ট টেকনোলজিস সিস্টেমের সফটওয়্যার গবেষণা বিভাগের প্রধান ছিলেন। বেল ল্যাবস এ কর্মরত অবস্থায় তিনি সি ভাষাটি (C programming language) তৈরি করেন। এছাড়া তিনি কেন টমসনের সাথে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমের প্রাথমিক ডিজাইনে অংশ নেন।
বিয়ারনে স্ট্রোস্টরুপ (Bjarne Stroustrup) বিয়ারনে স্ট্রোস্টরুপ একজন ডেনীয় কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়-এর কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তিনি সি++ নামের প্রোগ্রামিং ভাষাটি উদ্ভাবন করার জন্য সর্বাধিক পরিচিতি পেয়েছেন। স্ট্রোভস্টরুপ গণিত এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানে ১৯৭৫ সালে ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যান্ড সায়েন্ট, ডিগ্রী (মাস্টার্স ডিগ্রীর ডেনীয় নাম) অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচ, ডি ডিগ্রী অর্জন করেন। আগে তিনি এটিঅ্যান্ডটি পরেষণাগারের বৃহৎ মাত্রার প্রোগ্রামিং গবেষণা বিভাগের প্রধান হিসাবে এর সৃষ্টিলগ্ন থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি টেক্সাস ও অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চেয়ারে আসীন আছেন।
গুইডো ভ্যান রস্যিউম (Guido Van Rossum)ঃ গুইডো ভ্যান রস্যিউম একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। তিনি পাইথন প্রেগ্রামিং ভাষার জনক হিসেবে সমধিক পরিচিত। পাইথন কমিউনিটিতে গুইডো ভ্যান রস্যিউম 'বেনাভোলেন্ট ডিক্টেটর ফর লাইক" হিসেবে সুপরিচিত। তিনি পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার উন্নয়ন ও এসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভ্যান রস্যিউম ২০০৫ সালে বিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল-এ যোগ নিয়ে ২০১২ সালের ৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন। গুগলে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি প্রায় অর্ধেক সময় পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার উন্নয়নে কাজ করে যান। জানুয়ারি ২০১৩ সালে ভ্যান রস্যিউম ড্রপবক্সে যোগ দান করেন।
এডগার ফ্রাঙ্ক টেড কড (Edgur Frank Codd): এডগার ফ্রাঙ্ক টেড কড ছিলেন একজন ইংরেজ কম্পিউটার বিজ্ঞানী। সম্পর্কভিত্তিক ডেটাবেজ তত্ত্বে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। আইবিএম এর জন্য কাজ করার সময়কালে তিনি ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার সম্পর্কিক মডেল উদ্ভাবন করেন। তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞানে অন্যান্য আরো অনেক কৃতিত্ব রেখে থাকলেও, ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার জন্যে তাঁর দেয়া সাধারণীকৃত তত্ত্বটিই তাঁর শ্রেষ্ঠতম অবদান হিসাবে পরিচিত হয়ে আছে। ১৯৮১ সালে এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে টুরিং পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
বাংলাদেশের আইসিটি (ICT)'র অগ্রপথিক
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: তিনি একাধারে একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষক, কলামিস্ট এবং লেখক। বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াড ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতায় এসি এম আই সি.পি.সি. তে বুয়েটের অংশ গ্রহণের ব্যাপারে তার অবদান অপরিসীম। তিতাস গ্যাস কোম্পানি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, নির্বাচন কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ সহ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটালকরণও তারই অবদান। ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির মূল আয়োজক ছিলেন মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
দেশে কম্পিউটারের শুল্ক ও ভ্যাট মুক্ত আন্দোলনের অগ্রণী নেতা ও শিক্ষায় কম্পিউটার প্রচলনের একনিষ্ঠ সাধক মোস্তাফা জব্বার এখন তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক অনেক কমিটির সদস্য। তিনি কপিরাইট বোর্ড এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির সদস্য। ২০০৭ সালের ২০ মার্চ তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা সম্পর্কে প্রথম নিবন্ধ লেখেন। তিনি কম্পিউটার বিষয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন। দেশের কম্পিউট বিষয়ক পত্রিকাসমূহে ব্যাপকভাবে লেখালেখিতে ব্যস্ত মোস্তাফা জব্বার নবম ও দশম শ্রেণির কম্পিউটার বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা' বইটির লেখক। তার লেখা "কম্পিউটার ও ইনফরমেশন টেকনোলজি" এবং "একাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম" স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্যবই। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি" বই-এর লেখক তিনি। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা, দুই খন্ডের প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ছাড়াও তার লেখা কম্পিউটার প্রকাশনা, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল ও তার সম্পাদিত কম্পিউটার অভিধান ব্যাপকতর প্রচলিত কম্পিউটার বিষয়ক বই।
তিনি খড়গপুর IIT, India থেকে আইটি (IT) বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (BCC) নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। তিনি ২০০০ সালে মিলিনিয়াম বাগ (Mellenium Bug) সমস্যার সমাধান করেন। বর্তমানে তিনি প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে কর্মরত আছেন।
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল (Muhammed Jafar Iqhal) (জন্ম: ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২) একজন বাংলাদেশী লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ। তাকে বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখা ও জনপ্রিয়করণের পথিকৃত হিসাবে গণ্য করা হয়। এছাড়াও তিনি একজন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক। তার লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান। জাফর ইকবাল বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তির অগ্রগতির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তরুণদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির বিকাশেও কাজ করছেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় (জন্ম: ২৭ জুলাই, ১৯৭১) সজীব ওয়াজেদ জয় একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ। তিনি নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজ হতে স্নাতক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এ্যট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করেন। তিনিই প্রথম কাগজে-কলমে “ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ভিশন ২০২১” এবং তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নগুলোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য ই-গভর্ন্যান্স, ই-কমার্স, ই-এডুকেশন এবং আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের বিস্ময়: আইসিটিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির একটি বড় নমুনা হচ্ছে ওয়াসিক ফারহান রূপকথা। পৃথিবীর সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রোগ্রামার। সে মাত্র ৫ বছর বয়সে প্রোগ্রামিং শুরু করে। ২০১২ সালে Believe it or not বইতে তার নাম আসে। BASIS থেকে সে প্রোগ্রামার হিসেবে পুরস্কার পায়।


Comments