বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্ন বিশ্লেষণে তৈরি (Comprehensive Question)
উত্তর: (ক) ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয়।

(খ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য কী ধরনের সমাধান করতে হবে তার সম্ভাব্য সকল সমাধান প্রোগ্রাম আকারে যন্ত্র বা কম্পিউটারে পূর্বেই সংরক্ষণ করে দেওয়া হয়। যন্ত্র বা কম্পিউটার এর বাইরে কোনো বিষয় সমাধান করতে পারে না। কিন্তু মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক করতে হয়। যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সংরক্ষিত প্রেগ্রামের বাইরে চিন্তা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মৌলিক গবেষণা সম্ভব নয়।

(গ) উদ্দীপকে বিপ্লবী তার অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে অবদান ব্যবহার করেছে তা হলো ইন্টারনেট। প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেট এমনই এক সংযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে স্বাক্ষরিক অর্থে সারা বিশ্বই চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। এর মাধ্যমে মুহূর্তেই বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। লেখাপড়া, গবেষণা, সাহিত্যচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, বই ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো সময় পাওয়া সম্ভব। এটি জ্ঞানভান্ডার লাইব্রেরিকে এনে দিয়েছে মানুষের হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত হতে যে কেউ বিশ্বের সবচেয়ে বড় শাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে পারে। সেখানকার বিভিন্ন বই থেকে। তথ্যও সংগ্রহ করতে পারে। এই ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করেই * বিপ্লবী তার অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরির বই পড়েও সে প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে থাকে। অর্থাৎ বলা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান ইন্টারনেটের কল্যাণে বিপ্লবী সহজেই তার অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে পেরেছে।

(ঘ) ১৯৯২ সালে প্রণীত 'কম্পিউটার ইথিক্স ইন্সটিটিউট'- এর কম্পিউটার ইথিক্স এর নির্দেশনা অনুসারে, অন্যের বুদ্ধিদীপ্ত বা গবেষণালব্ধ ফলাফলকে নিজের মালিকানা বলে দাবি করা যাবে না। অন্যের তথ্য বা গবেষণা লব্ধ ফলাফল ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই মূল লেখক বা মূল কর্মের শ্রষ্টার নাম সংযোজন করতে হবে এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে তা নৈতিকতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা 'প্লেজিয়ারিজম' অপরাধের আওতাভুক্ত। উদ্দীপকের বিপ্লবী নৈতিকতার এসব নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় সকল তথ্যসূত্র উল্লেখ করে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে। পক্ষান্তরে কেয়া অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে কোনো প্রকার তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে অন্য একজনের অ্যাসাইনমেন্ট কপি করে জমা দেয়। কেয়ার এ নীতিহীন কাজটি প্লেজিয়ারিজম অপরাধের আওতাভুক্ত।
উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, বিপ্লবী ও কেয়ার কাজে নৈতিকতা ও আদর্শে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। বিপ্লবী নীতি ও আদর্শের অধিকারী হলেও কেয়া নীতি ও আদর্শহীন একজন অপরাধী।
উত্তর: (ক) বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত যে বিষয়টি রোবটের ধারণা, নকশা, উৎপাদন, কার্যক্রম কিংবা ব্যবহার বাস্তবায়ন করতে পারে তাই হলো রোবটিক্স।

(খ) ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণকে বোঝায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণ্যটির মূল বিষয় হলো সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য মোচনের ব্যবস্থা করা। বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। সেগুলো হলো-মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনগণের সম্পৃক্ততা, সিভিল সার্ভিস এবং দৈনন্দিন জীবনে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার।

(গ) উদ্দীপকে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। নিচে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশ তৈরির জন্য শক্তিশালী কম্পিউটারে সংবেদনশীল গ্রাফিক্স ব্যবহার করতে হয়। সাধারণ গ্রাফিক্স আর ভার্চুয়াল জগতের গ্রাফিক্সের মধ্যে তফাত হলো এখানে শব্দ এবং স্পর্শকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীরা যা দেখে এবং স্পর্শ করে তা বাস্তবের কাছাকাছি বোঝানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি চশমা বা হেলমেট (HMD: Head Mountained Display) ছাড়াও অনেক সময় হ্যান্ড গ্লাভস, বুট, স্যুট ব্যবহার করা হয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে দূর থেকে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। একে টেলিপ্রেজেন্স বলা হয়। এছাড়াও এ পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক শব্দও সৃষ্টি করা হয়, যাতে মনে হয় শব্দগুলো বিশেষ বিশেষ স্থান হতে উৎসারিত হচ্ছে।

(ঘ) উদ্দীপকে মুমতাহ Fecebook account এর মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে আনন্দ-অনুভূতি শেয়ার করে। Fecebook account হলো বিশ্বগ্রাম ধারণার উপাদান 'বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ' এর অংশ। অর্থাৎ এটি বিশ্বগ্রাম ধারণা সংশ্লিষ্ট। নিচে এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা হলো: গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হলো এমন একটি পরিবেশ ও সমাজ যেখানে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করা সহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য- সহযোগিতা প্রদান করতে পারে। বিশ্বগ্রাম ধারণায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসিরা নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান ও আনন্দ-অনুভূতি শেয়ারের মাধ্যমে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারে। Facebook account হলো বিশ্বগ্রাম ধারণা বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম। যার সাহায্যে সারা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সাথে যোগাযোগসহ বিনোদন জগতের আপডেট তথ্য, ভিডিও, ছবি খুব সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যায়। Facebook account এর মাধ্যমে যে কেউ তার ভালোলাগা, মন্দলাগা বিষয়ে মতামত উপস্থাপন, মতবিনিময়সহ অন্যকে শেয়ার করতে পারায় বৈশ্বিক যোগাযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্বগ্রাম চেতনার সাথে তাল মিলিয়ে Facebook account এর মাধ্যমে এক দেশের মানুষ অন্য দেশের ধ্যান ধারণা, চিন্তা, সংস্কৃতির ছোঁয়ার সাথেও পরিচিত হতে পারছে।
উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, Facebook account এর মাধ্যমে মুমতাহার আনন্দ-অনুভূতি শেয়ার করা বিষয়টি বিশ্বগ্রাম ধারণারই বাস্তব প্রয়োগ, যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী একটি একক পরিবারে রূপ নিয়েছে। বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষকে Facebook কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
উত্তরঃ (ক) টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থায় মনিটর বা পর্দায় অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়ে যখন একে অন্যকে সরাসরি দেখে কথোপকথনে অংশগ্রহণ করে তখন তাকে ভিডিও কনফারেন্সিং কলা হয়।

(খ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসে ডাক্তারের চিকিৎসা গ্রহণ করার পদ্ধতিটি হলো টেলিমেডিসিন। এ পদ্ধতিতে মোবাইলের মাধ্যমে দূর থেকে রোগীরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট হতে অতিদ্রুত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারে। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা ঘরে বসেই এ পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা পেতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেট ও ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার করে এক দেশের চিকিৎসক অন্য দেশের চিকিৎসকের সাথে সহজেই অনলাইন যোগাযোগ স্থাপন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে।

(গ) উদ্দীপকে প্রিয়াংকার চিকিৎসায় চিকিৎসক ক্রায়োসার্জারি পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছিলেন। নিচে ক্রায়োসার্জারি পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো-
ক্রায়োসার্জারি এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যা অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে ত্বকের অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত রোগাক্রান্ত টিস্যু/ত্বক কোষ ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতির চিকিৎসায় প্রথমেই সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর (যেমন- টিউমার, আঁচিল ইত্যাদি) অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রোগাক্রান্ত কোষটিতে আল্ট্রা থিন সুচযুক্ত ক্রায়োপ্রোব প্রবেশ করিয়ে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রয়োগ করা হয়। তাপমাত্রা অত্যধিক হ্রাসের ফলে (-৪১ থেকে -১৯৬ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড) নির্বাচিত টিস্যুটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঐ নিম্নতম তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন সম্ভব না হওয়ার দরুণ রোগাক্রান্ত টিস্যুর ক্ষতিসাধন হয়। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগাক্রান্ত টিস্যুর ধরন অনুযায়ী এবং নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন- তরল নাইট্রোজেন আর্গন, অক্সিজেন বা তরল কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করা হয়। উপরে বর্ণিত পদ্ধতি অবলম্বন করেই ড.সাইফুল্লাহর গালের আঁচিলের চিকিৎসা করা হয়েছিল। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় ক্রায়োসার্জারি অনেক সাশ্রয়ী এবং সময় কম লাগে। এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত অথবা অপারেশনজনিত কাটা-ছেঁড়ারও জটিলতা নেই।

(ঘ) উদ্দীপকে দরজা দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ অ্যানিং পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে যা বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির অন্তর্গত। মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য বায়োম্যাট্রিক্স প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষণীয়। বায়োমেট্রিক প্রযুক্তিতে কোন ব্যক্তির মুখমণ্ডল, হাতের আঙ্গুল ও রেখা, রেটিনা ও আইরিস, ডিএনএ এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা হয়। উদ্দীপকের প্রিয়াংকা ল্যাবরেটরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফিংগার প্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যান ব্যবহার করেছেন যার উভয়ই বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। উভয় পদ্ধতিতেই যেকোন ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। তাই বলা যায়, কাজের ধরণ ভিন্ন হলেও প্রযুক্তিগুলো মূলত একই।
উত্তর: (ক) রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এক ধরণের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্র যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কোন ব্যক্তির নির্দেশে কাজ করতে পারে। এর কাজের ধরন দেখে মনে হবে এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে।

(খ) তথ্য প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। এ প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, আগাছা সহিষ্ণু ও পোকামাকড় প্রতিরোধী করার জন্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এর ফলে অধিক ফলন লাভের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

(গ) উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী শিহাব শাহরিয়ার বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে ল্যাবের দরজা খুলে থাকেন। মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি। শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতির একটি কৌশল হলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট হলো কোনো ব্যক্তিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করার জন্য উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপকে শনাক্তকারী একক হিসেবে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পূর্ব হতেই আঙুলের ছাপ পড়তে পারে এমন মেশিনের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার) সাহায্যে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। পরবর্তীতে যখন একই ব্যক্তি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারে আঙুল রাখে তখন যে আঙুলের ছাপের ছবি তৈরি হয় তা পূর্বে ডেটাবেজে রক্ষিত ছবির সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে মেশিনটি আঙুলের রেখার বিন্যাস, ত্বকের টিস্যু এবং ত্বকের নিচের রক্ত সঞ্চালনের ওপর ভিত্তি করে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপচিত্র তৈরি করে। বায়োমেট্রিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের জনপ্রিয়তা সর্বাধিক। তুলনামূলকভাবে কমদামী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং প্রচুর ডেটা রাখতে পারে বলে আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অন্যান্যদের প্রবেশ ও বের হবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

(ঘ) উদ্দীপকের শিহাব শাহরিয়ারের প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক নয়। পাসওয়ার্ড সিস্টেম ব্যবহার করে ল্যাবে প্রবেশ করা গেলেও এর নিরাপত্তা অনেক কম ও সময় সাপেক্ষ। অনেকে পাসওয়ার্ড ভুলে যেতে পারে। আবার একজনের পাসওয়ার্ড কোনো কারণে অন্যজন জেনে গেলে সে সেই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ল্যাবে প্রবেশ করতে পারে, যা নিরাপত্তার বিষয়টি অনিশ্চিত করে তোলে। প্রতিটি মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ ভিন্ন। অর্থাৎ একজনের সাথে অন্য আরেকজনের আঙ্গুলের ছাপের মিল নেই। ফলে ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার পদ্ধতিটি অপেক্ষাকৃত নির্ভুল। এখানে কেউ চাইলেও আরেকজনের হয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করতে পারবে না: যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করে। তাই নিরাপত্তার বিষয়ে বিবেচনা করলে শিহাব শাহরিয়ার-এর প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক নয়।
উত্তরঃ (i) উদ্দীপকে খলিলের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো জীবের জিনোমের মধ্যে নতুন জিন যোগ করে বা কোনো জিন অপসারণ করে বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে নতুন জীব কোষ সৃষ্টি করা হয় তাকে জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। সংক্ষেপে বলা যায়, কোনো জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিন প্রকৌশলের শাব্দিক অর্থ বংশগতির প্রযুক্তিবিদ্যা। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ধাপসমূহ নিম্নরূপ:
=> সর্বপ্রথমে যেই জিনটি দ্বারা একটি জীবের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা হবে তাকে আলাদা করা হয়।

=> একটি DNA এর জিন অন্য একটি জিনে দৈবচয়নভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়, অথবা DNA-টি একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়। তাপ ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে একটি DNA-কে একটি ব্যাকটেরিয়া কোষে ঢোকানো হয়।

=> বিভিন্ন পোষক দেহে DNA সমূহ সাধারণত মাইক্রো ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রাণীকোষের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করানো হয়।

=> যেই DNA নতুন জিন তৈরি করবে তাকে একটি ব্যাকটেরিয়াতে রূপান্তরিত করা হয়। অতঃপর সেই ব্যাকটেরিয়া উদ্ভিদের মধ্যে এক ধরনের টিউমার তৈরি করবে এবং তা থেকে প্রাকৃতিকভাবে নতুন GMO (Genetically Modified Organism) তৈরি করবে।

(ii) উদ্দীপকের গবেষণাগারে প্রবেশের জন্য বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। নিচে এ প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করা হলো: মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি। শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতির একটি কৌশল হলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট হলো কোনো ব্যক্তিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করার জন্য উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপকে শনাক্তকারী একক হিসেবে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পূর্ব হতেই আঙুলের ছাপ পড়তে পারে এমন মেশিনের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার) সাহায্যে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। পরবর্তীতে যখন একই ব্যক্তি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারে আঙুল রাখে তখন যে আঙুলের ছাপের ছবি তৈরি হয় তা পূর্বে ডেটাবেজে রক্ষিত ছবির সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে মেশিনটির আঙুলের রেখার বিন্যাস, ত্বকের টিস্যু এবং ত্বকের নিচের রক্ত সঞ্চালনের ওপর ভিত্তি করে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপচিত্র তৈরি করে। বায়োমেট্রিক ডিভাইসগুলোর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারের জনপ্রিয়তা সর্বাধিক। তুলনামূলকভাবে কমদামী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং প্রচুর ডেটা রাখতে পারে বলে আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অন্যান্যদের প্রবেশ ও বের হবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

(iii) ডঃ খলিলের কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো আইরিশ ও রেটিনা স্ক্যানিং দ্বারা ব্যক্তি শনাক্তকরণ। বায়োমেট্রিক প্রযুক্তিতে শনাক্তকরণের জন্য মানুষের চোখের আইরিসকে আদর্শ অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। একজন মানুষের চোখের আইরিশ বা চোখের তারার দৃশ্যমান রঙিন অংশ অপর কোনো মানুষের চোখের আইরিশের প্যাটার্নের সাথে মিলবে না। এটি অদ্বিতীয়, স্থায়ী এবং দৃশ্যমান। আইরিশ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে কোনো ব্যাক্তির এক বা উভয় চোখের আইরিশ বা চোখের তারার দৃশ্যমান রঙিন অংশের ভিডিওকে পরীক্ষা করে গাণিতিক প্যাটার্ন রিকগনিশন পদ্ধতির প্রয়োগে শনাক্তকরণ করা হয়। এই পদ্ধতিতেই চোখ ও মাথাকে স্থির করে একটি ক্যামেরাসম্পন্ন ডিভাইসের সামনে দাঁড়াতে হয়। এতে প্রায় ১ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় লাগে। এতে পূর্ব থেকে ধারণ করা চোখের আইরিশের প্যাটার্নের সাথে মিলিয়ে ব্যক্তি শনাক্তকরণ করা হয়।

(iv) ডঃ খলিলের অধিক ফসল উৎপাদনশীল বীজ আবিষ্কারের তথ্যসমূহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো বায়োইনফরমেটিক্স। কম্পিউটার সফটওয়্যার ও পরিসংখ্যানগত কৌশল ব্যবহার করে জৈব ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জৈব গবেষণায় ব্যবহৃত একটি উন্নত পদ্ধতিকে বলে বায়োইনফরমেটিক্স। এতে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা (আণবিক পর্যায়সহ) ও সমস্যাদি উদঘাটনের জন্য ফলিত গণিত, তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন ও জৈব রসায়ন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বায়োইনফরম্যাটিক্স এর প্রয়োগক্ষেত্র হলো নিম্নরূপ:
মূলত জৈবিক পদ্ধতি বিশ্লেষণ সম্পর্কে সম্যক এবং সঠিক ধারণা অর্জন করার ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। আর এই জৈবিক তথ্য হিসাব-নিকাশ এবং এ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য। তবে জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন সিকোয়েন্স ইত্যাদি গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ গঠনে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, ওষুধ তৈরিতে, বর্জ্য পরিষ্কারকরণে, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণায়, বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়।

(v) ডাঃ নিলয়ের চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক ও রোগাক্রান্ত টিস্যুকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া।
ক্রয়োথেরাপিতে টিউমার টিস্যুর তাপমাত্রা ১২ সেকেন্ডের ভিতরে কমিয়ে -৪১°C থেকে -১৯৬°C তাপমাত্রায় নিয়ে আসা হয়। এই সময় একটি সূচের প্রান্ত দ্বারা টিউমার টিস্যুর ভিতরে খুব দ্রুত আর্গন গ্যাসের নিঃসরণ করানো হয়। তাপমাত্রার অত্যধিক হ্রাসের ফলে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ঐ টিস্যুটি একটি বরফপিন্ডে পরিণত হয়। বরফপিন্ডের ভেতরে টিউমার টিস্যুটি আটকা পড়ে গেলে এতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ -১৯৬০ সে. তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন পরিবহন সম্ভব নয়। এর ফলে জমাটবদ্ধ অবস্থায় টিউমার টিস্যুটির ক্ষয় সাধিত হয়। আবার সূচের প্রান্ত দিয়ে টিউমার টিস্যুটির ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে টিস্যুটির তাপমাত্রা ২০০-৪০° সে. এ উঠানো হয়। তখন জমাটবদ্ধ টিউমার টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং টিস্যুটি ধ্বংস হয়ে যায়।

(vi) ডাঃ নিলয়ের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের পরিবেশটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবে বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি ও সিমুলেশন তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রি-মাত্রিক ইমেজ তৈরির মাধ্যমে অতি অসম্ভব কাজও করা সম্ভবপর হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ যেখানে ব্যবহারকারী 'তথ্য আদান প্রদানকারী বিভিন্ন ধরনের চশমা, headsets, gloves, suit, stereoscopic বা ত্রিমাত্রিম স্ক্রীন সম্বলিত একটি হেলমেট পরিধান করে ঐ পরিবেশ মগ্ন হয়, বাস্তবের অনুকরণের সৃষ্ট দৃশ্য উপভোগ করে, সেই সাথে বাস্তবের ন্যায় শ্রবণানুভূতি এবং দৈহিক ও মানসিক ভাবাবেগ, উত্তেজনা অনুভূতি প্রভৃতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

(vii) ডঃ খলিলের গবেষণাগারে সে প্রবেশ ও কক্ষে প্রবেশের জন্য কৌশল দুটির মধ্যে গবেষণাগারে প্রবেশের কৌশল বেশি সুবিধাজনক। অফিসে প্রবেশের জন্য ফিংগার প্রিন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ডিভাইসের দাম কম তাই এই পদ্ধতি ব্যবহারের খরচ তুলনামূলক কম কিন্তু সফলতার হার প্রায় শতভাগ। কারণ প্রত্যেক মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং সারা জীবন অপরিবর্তিত থাকে।
অপরদিকে কক্ষে প্রবেশের জন্য আইরিশ এবং রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তুলনামূলকভাবে বেশি মেমোরি প্রয়োজন হয়। চোখের চশমা ব্যবহার করে এই পদ্ধতিতে সনাক্তকরণ করা যায় না ফলে ডিভাইস ব্যবহার করার সময় চশমা খোলার প্রয়োজন হয়। অনেকে মনে করেন এই পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে চোখের ক্ষতিও হয়। ক্যামেরার সামনে আলোর পর্যাপ্ততার উপরও সনাক্তকরণ নির্ভরশীল।

(viii) ডঃ খলিলের সহকারীর কর্মকান্ডটি হলো হ্যাকিং। কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, ডেটার উপর অননুমোদিতভাবে অধিকার (Access) লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। এতে ব্যক্তির তথ্যের বা সিস্টেমের ক্ষতিসাধন করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ত্রুটি সম্পর্কে কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে জানান দেয়া। যে সকল ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কর্মে/অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে তাদের হ্যাকার বলে। হ্যাকিং একটি নৈতিকতা বর্হিভূত কাজ। কারণ কারো অনুমতি ব্যতীত তার কোনো তথ্য ব্যবহার করা বা সেগুলো দেখা নৈতিকতা বিরোধী। একে এক প্রকার চুরি বলা যায়। ডঃ খলিলের সহকারী তার কাছ থেকে কোনো প্রকার অনুমতি গ্রহণ করেন নি। বরঞ্চ অনুমতি ব্যতিত কম্পিউটার থেকে তথ্য নেয়ার চেষ্টা করেছেন যা চরমভাবে নৈতিকতা পরিপন্থী। তাই বলা যায় উদ্দীপকে উল্লিখিত সহকারীর কাজ বেআইনী ও নৈতিকতা পরিপন্থী।

(ix) ডঃ খলিলের গবেষণা কার্যক্রমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তি প্রতিফলিত হয়েছে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনে কোনো জীবের জিনোমের মধ্যে নতুন জিন যোগ করে বা কোনো জিন অপসারণ করে বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে জিন বেশি ব্যবহার উপযোগী করা হয়। জীবের কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থানরত ক্রোমোজোমের মধ্যে চেইনের মতো পেঁচানো কিছু বস্তু থাকে যাকে DNA বলে। এই DNA অনেক অংশে বিভক্ত এবং এর একটি নির্দিষ্ট অংশকে জিন বলে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ বংশগতি সংক্রান্ত বিষয়ে অর্জিত জ্ঞানকে মানুষের মঙ্গলের উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হয়।

বায়োইনফরমেটিক্স হলো এমন একটি ক্ষেত্র যা জীব সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে বুঝার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি এবং সফটওয়্যার টুলস্ উন্নয়ন করে। বায়োইনফরমেটিক্সের প্রধান কাজ হচ্ছে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞানকে বিকশিত করার জন্য সফটওয়্যার সামগ্রী তৈরি করা। জীববিজ্ঞানের অনেক ক্ষেত্রেই বায়োইনফরমেটিক্স এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জৈব তথ্যকে সাজিয়ে গুছিয়ে সংরক্ষণ করার জন্য শক্তিশালী ডেটাবেজ এবং ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের ইনফরমেশন সিস্টেমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (artificial intelligence), সফ্ট কম্পিউটিং, ডেটা মাইনিং, ইমেজ প্রসেসিং সিমুলেশন ইত্যাদি বিভিন্ন দক্ষ অ্যালগরিদম ব্যবহৃত হয়।

(x) ডাঃ নিলয়ের অপারেশনের অভিজ্ঞতা লাভের প্রযুক্তি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। এর বিভিন্ন প্রভাব নিম্নরূপ:

বিনোদন ক্ষেত্রেঃ নানা ধরনের বিনোদনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাথে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ত্রিমাত্রিক পদ্ধতিতে নির্মিত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নির্ভর কল্পকাহিনি, পৌরাণিক কাহিনি, কার্টুন, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ইত্যাদি মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

যানবাহন চালানো ও প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সবচেয়ে বাস্তবমুখী ব্যবহার হয়ে থাকে ফ্লাইট সিমুলেটরে যেখানে বৈমানিকরা বাস্তবে আসল বিমান উড্ডয়নের পূর্বেই বিমান পরিচালনার বাস্তব জগৎকে অনুধাবন করে থাকেন। এ ছাড়াও মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।

শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন-শেখানো কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায়। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন যা কোনো অবস্থাতেই বাস্তবে অবলোকন সম্ভব নয় সেগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা সম্ভব হচ্ছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুবৃহৎ পরিসরে এর ব্যবহার ব্যাপক। জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদিসহ নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।।

সামরিক প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে সৈনিকদেরকে উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়। সত্যিকারের যুদ্ধকালীন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সৈনিকেরা তাদের সঠিক করণীয় সম্পর্কে আগেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে।

ব্যবসা বাণিজ্যে: উৎপাদিত কিংবা প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন, বিপণন কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। কোনো বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর দ্রব্য বাজারজাত করার আগে কোনো কর্মচারীর জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সেগুলো পরীক্ষা করে নেওয়া সম্ভব হয়।

(xi) উদ্দীপকের ডঃ খলিলের গবেষণা সম্পর্কিত তথ্যসমূহ তার সহকারী অনুমতি ব্যতিত কম্পিউটার থেকে নেয়ার চেষ্টা করে যা হ্যাকিং এবং এটি নৈতিকতার দৃষ্টিতে অপরাধ।
কম্পিউটার নৈতিকতা হচ্ছে নৈতিকতার একটি ধারণা যা কম্পিউটার ব্যবহারে নৈতিকতার বিষয়, সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরোধ করাকে বুঝায়। ১৯৯২ সালে "কম্পিউটার ইথিকস ইনস্টিটিউট” নৈতিকতার বিষয়ে যে ১০টি নির্দেশনা তৈরি করেন তা নিচে উপস্থাপন করা হলো:


১ . কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্যের ক্ষতি না করা।
২. অন্যের কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ না করা।
৩. অনুমতি ব্যতীত কারও ফাইল, গোপন তথ্য সংগ্রহ না করা।
৪. চুরির উদ্দেশ্যে কম্পিউটার ব্যবহার না করা।
৫ . মিথ্যা তথ্যের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার না করা।
৬. লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহার ও কপি না করা।
৭ . বিনা অনুমতিতে কম্পিউটার সংক্রান্ত অন্যের রিসোর্স ব্যবহার না করা।
৮ . অন্যের কাজকে নিজের বলে চালিয়ে না দেওয়া।
৯. তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের আগে সমাজের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করা।
১০. কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় অন্যের ভালোমন্দ বিবেচনা করা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শন করা।
উদ্দীপকের ডঃ খলিলের সহকারীর হ্যাক করার চেষ্টা কম্পিউটার নৈতিকতার ৩, ৪ ও ৭ নং ধারার পরিপন্থী বলে এটি দন্ডনীয় অপরাধ।

(xii) ডাঃ নিলয়ের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা VR হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সিস্টেম যাতে মডেলিং (Modelling) ও অনুকরণবিদ্যার (Simulation) প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য পরিবেশের সাথে সংযোগ স্থাপন বা উপলব্ধি করতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে অনুকরণকৃত পরিবেশ হুবহু বাস্তব পৃথিবীর মত হতে পারে। এক্ষেত্রে অনেক সময় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় অনুকরণকৃত বা সিম্যুলেটেড পরিবেশ বান্ধব থেকে আলাদা হতে পারে। উন্নত বিশ্বের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা কিংবা সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিমান পরিচালনা প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করছে। এজন্য ফ্লাইট সিম্যুলেটর ব্যবহার করা হয়। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ফ্লাইট সিম্যুলেশনের ক্ষেত্রে স্বল্প খরচে বিমান চালকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয়। নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা যায়। নগর পরিকল্পনায় ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর প্রয়োগ ঘটিয়ে নগর উন্নয়ন রূপরেখা, নগর যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি সহজ ও আকর্ষনীয়ভাবে বর্ণনা করা যায়। স্থপতিগণ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কোনো ভবনের নকশা তৈরি করে বাস্তবে ভবন নির্মাণের পূর্বেই তার কাল্পনিক রূপদান করতে পারেন। ফলে ভবন কিরূপ হবে তা দেখা যায় এবং কোন ত্রুটি থাকলে তা সহজেই ধরা পড়ে।
(i) উত্তরঃ রুবনের অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন সম্ভব হয়েছে ই-লার্নিং এর ব্যবহারে। ই-লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং এর আরেক নাম ডিসটেন্স লার্নিং।


দূরশিক্ষণ বা ডিসটেন্স লার্নিং (Distance Learning) এর সাহায্যে ঘরে বসে পড়াশুনা বা ডিগ্রী নেওয়া সম্ভবপর বিধায় শিক্ষার এ ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লব এনেছে। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইভ ক্লাসেও অংশ নেওয়া যায়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভিডিও কনফারেন্সিং এর সাহায্যেও ক্লাস নিয়ে থাকে। তবে এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এই ধরনের অনলাইন এডুকেশনে বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশগ্রহণ করা বা সময়মত পরীক্ষাও দেওয়া যায়।

(ii) উত্তরঃ উদ্দীপকে রুবনের ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তিটি হল ন্যানোপ্রযুক্তি। ন্যানোপ্রযুক্তি হচ্ছে পারমাণবিক বা আণবিকমাত্রার কার্যক্ষম প্রকৌশল যন্ত্র যা কোন ডিভাইস বা সিস্টেমের কাজ এবং আরও অধিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। এটি পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞান। একটি উপাদানের গোড়ার দিকের আবিষ্কার থেকে বর্তমানে উন্নয়নকৃত পদ্ধতি এবং সামগ্রী ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পণ্য বা উপাদান তৈরির জন্য ন্যানোপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হয়। ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে অণুর গঠন দেখা সম্ভব। এর একটি উদাহরণ হল STM (Scanning Tunneling Microscope)। ১৯৮০ সনে IBM -এর গবেষকরা প্রথম STM আবিষ্কার করেন। যা দিয়ে অণুর গঠন পর্যন্ত দেখা সম্ভব। এ যন্ত্রটির আবিষ্কারই ন্যানো প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে।

(iii) উত্তরঃ রবিনের কাজটি এক ধরনের সাইবার ক্রাইম, একে প্লেজিয়ারিজম বলে। কারো লেখা, উদ্ধৃতি বা ছবি ডাউনলোড করে অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করার প্রক্রিয়াটি হলো প্লেজিয়ারিজম। রবিন তার অ্যাসাইমেন্টটি সহজে করার জন্য ওয়েবসাইট হতে কোনো অনুমতি ছাড়া তথ্য সূত্রের উল্লেখ না করে কিছুটা পরিবর্তন বা একই রকমভাবে ব্যবহার করেছে। এটি একটি নৈতিক অপরাধ যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন দ্বারা সিদ্ধ নয়। এজন্যই রবিনের অ্যাসাইন্টমেন্টটি গৃহীত হয়নি।

(iv) উত্তরঃ রবিনের কাজটি একটি অনৈতিক কর্মকান্ড। দক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাব থেকে অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রভাব বেড়ে যায়। উদ্দীপকে উল্লেখিত রবিন তার অ্যাসাইনমেন্টটি নিজে তৈরি না করে উদ্ধৃতি, তথ্য ও ছবি সরাসরি ব্যবহার করছে ফলে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার অভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ধরে নেওয়া হচ্ছে যে রবিন না বুঝে কাজটি করেছে। যা অনৈতিক অপরাধের আওতায় পড়েছে। সে যে সকল উপাদান ওয়েবসাইট হতে সরাসরি ব্যবহার করেছে তার যথাযথ সূত্রের উল্লেখ থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ অপরাধের আওতায় পড়বে না। তাই বলা যায়, রবিন তার অ্যাসাইনমেন্টটিতে সঠিক উৎস উল্লেখ করে এবং অ্যাসাইনমেন্ট সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয় বাদ দিলে রবিনের অ্যাসাইনমেন্টটি গৃহীত হতো।

(v) উত্তরঃ রুবনের পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে অর্থ উপার্জনের প্রযুক্তিটি হলো- আউটসোর্সিং। এটি হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেয়া। আউটসোর্সিং এখন একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। আউটসোর্সিং শিল্পকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষিত বিরাট জনগোষ্ঠী এখন অর্থ উপার্জন করতে পারছে। আউটসোর্সিং এখন অনেকেরই পেশা হিসাবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর আউটসোর্সিং হতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার আয় করে। শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী এই শিল্পকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। কারো কাছে যদি ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি কম্পিউটার থাকে তাহলে সে যে কোন জায়গাতে বসেই ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর কাজগুলো করতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরি, থ্রিডি এনিমেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ছবি সম্পাদনা, ডাটা এন্ট্রি, লেখালেখি করা, কোন পণ্যের বাজার খুজেঁ দেওয়া, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ করা, ডেটা বিশ্লেষণ করা ইত্যাদিসহ আরো অসংখ্য কাজ এই পদ্ধতিতে করা সম্ভব।

(vi) উত্তরঃ রকিবের কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রটির প্রযুক্তিটি হলো 'রোবটিক্স'। টেকনোলজির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ তৈরীতে রোবট ব্যবহৃত হয়। কারণ এসব ক্ষুদ্র যন্ত্র হাতে তৈরী করলে সঠিক নাও হতে পারে। "রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা; যা মানুষ যেভাবে কাজ করে তা সেভাবে কাজ করতে পারে অথবা এর কাজের ধরন দেখে মনে হবে এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে।"
'রোবটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করা হয়। কম্পিউটার রোবটের সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। সকল রোবটের কাজের ধারা পূর্ব থেকে ঠিক করে দেওয়া থাকে। রোবট শুধুমাত্র তাকে নির্দেশিত কাজের ধারা অনুযায়ী সাড়া দিয়ে থাকে। প্রত্যেকটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে নির্দেশনা রোবটের মেমরিতে তৈরি করে দিতে হয়।
রোবট অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন ও নিখুঁত কর্মক্ষম একটি যন্ত্র। এটা একটি স্বনিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার পদ্ধতি।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে সার্জারির কাজে রোবট সফলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।

(vii) উত্তরঃ রাকিবের কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রটি হলো রোবট। একটি রোবটে সাধারণত নিম্নলিখিত উপাদান বা অংশগুলো থাকতে পারে। যথা-
মুভেবল বডি: স্থানান্তরিত হবার জন্য একটি রোবটে চাকা, যান্ত্রিক সংযোগসম্পন্ন পা কিংবা অন্য কোনো ধরনের নড়াচড়া করাতে সক্ষম যন্ত্রপাতি যুক্ত থাকে।
অ্যাকচুয়েটর: রোবটের শরীরের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়া করানোর জন্য একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর, হাইড্রোলিক সিস্টেম ও নিউমেট্রিক সিস্টেমের সমন্বয়ে তৈরিকৃত বিশেষ ব্যবস্থাটি অ্যাকচুয়েটর হিসেবে পরিচিত। এককথায় এটিকে মানুষের মতো রোবটের হাত-পায়ের পেশি হিসেবেও অভিহিত করা যায়।
বৈদ্যুতিক উৎস/পাওয়ার সিস্টেম: অ্যাকচুয়েটরকে কার্যকর করার জন্য রোবটের প্রয়োজন বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং এর জন্য ইলেকট্রিক রোবটসমূহ সাধারণত লেড এসিড ব্যাটারি বা এক্সটেনসন কর্ড ব্যবহার করে। এ ধরনের ব্যাটারি রিচার্জেবল হয়ে থাকে এবং রোবটকে কাজ করার পর বা কাজ করার পূর্বে ব্যাটারি রিচার্জিং করার প্রয়োজন হয়।
ইলেকট্রিক সার্কিট: ইলেকট্রিক সার্কিট বৈদ্যুতিক রোবটের মোটরসমূহে বৈদ্যুতিক সংযোগ প্রদান করে। একই সাথে হাইড্রোলিক ও নিউমেট্রিক সিস্টেমের রোবটকে নিয়ন্ত্রণকারী সলিনয়েড বা ভালভসমূকেও এটি বৈদ্যুতিক সংযোগ প্রদান করে।
প্রোগ্রামকৃত মস্তিষ্ক বা কম্পিউটার: রোবটের মধ্যে স্থাপিত প্রোগ্রামকৃত মস্তিষ্ক বা কম্পিউটার এর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। যদি কোনো কারণে রোবটের আচরণ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে এর ভেতরে থাকা কম্পিউটারটি রিপ্রোগ্রাম করা হলেই চলবে।

(viii) উত্তরঃ উদ্দীপকে বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার উপযোগী বিশেষ যন্ত্রটি হচ্ছে রোবট। রোবট এর গুরুত্ব/প্রয়োগ।
=> শিল্প-কারখানায় পণ্য উৎপাদন, সংযোজন, প্যাকিং এবং পরিবহনের জন্য রোবটের ব্যবহার ফলপ্রসূ। যেমন-বর্তমানে গাড়ী ও বিমান সংযোজন ইত্যাদি কাজে রোবটের সফল ব্যবহার হচ্ছে।
=> যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধযানে ড্রাইভারের বিকল্প হিসেবে রোবটকে ব্যবহার করা যায়। এই সমস্ত রোবট দূর নিয়ন্ত্রিত (Remote Controlled) হওয়ায় যে কোনো মূহুর্তে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
=> যে সব ক্ষেত্রে অতি সূক্ষ্ম কাজ করা দরকার হয় যেমন ইলেকট্রনিক্স এর IC (Integrated Circuit) গুলো বানানোর জন্য এবং PCB (Printed Circuit Board) বানানোর জন্য রোবট ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে হাতে তৈরি জিনিস সঠিক নাও হতে পারে। যেমন-কম্পিউটারের মাদারবোর্ডসহ অন্যান্য সার্কিট বোর্ড তৈরিতে রোবট ব্যবহৃত হয়।
=> চিকিৎসা ক্ষেত্রে সার্জারির কাজে রোবট সফলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।
=> নিউক্লিয়াস রিয়্যাক্টরসহ বিভিন্ন বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রোবট ব্যবহার করা হয়।
=> উন্নত বিশ্বে নিরাপত্তার কাজে রোবটের সফল ব্যবহার হচ্ছে।
=> বাসা-বাড়ীতে কাজের লোকের বিকল্প হিসাবে রোবটের ব্যবহার শুরু হয়েছে।


(ix) উত্তরঃ তথ্য প্রযুক্তির নৈতিকতার বিচারে রুবনের আচরণ বৈধ হলেও রবিনের আচরণ বৈধ নয়। রবিনের আচরণ তথ্য প্রযুক্তির ভাষায় এক ধরনের প্লেজিয়ারিজম। অন্যের লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা প্রকাশ করাকেই প্লেজিয়ারিজম বলে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সাহিত্য, গবেষণা বা সম্পাদনা কর্ম হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করাই হল প্লেজিয়ারিজম। অনেক সময় কোনো লেখার গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুচ্ছও নকল করলে তা প্লেজিয়ারিজমের মধ্যে পড়ে। প্লেজিয়ারিজম একটি বেআইনী কাজ। কাজেই প্লেজিয়াবিজম প্রতিরোধ করা উচিৎ।

ইদানিং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজম অনেক বেশি দেখা যায়। শিক্ষার উদ্দেশ্য হল উচ্চতর চিন্তা করার দক্ষতা লাভ। অর্থাৎ কোনো বিষয় তা যতই জটিল হোক না কেন তা বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, সংক্ষেপণ বা নতুন ধারণা প্রবর্তন করার দক্ষতা অর্জন। এই দক্ষতা অর্জন অসম্ভব হয়ে যায় অনুলিপি বা নকলের মাধ্যমে। লেখার ক্ষেত্রেও নকল বা অনুলিপি করাকে প্লেজিয়ারিজম বলা হয়। নীতিগতভাবে যা এক জটিল সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। শিক্ষামূলক পরিবেশে প্লেজিয়ারিজম ঘটে তখনই যখন কোনো লেখক উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্যের ভাষা, চিন্তা বা লেখকের কোনো নিজস্ব ধারণা অথবা বিষয়বস্তু সূত্র উল্লেখ বা স্বীকার না করে ব্যবহার করে।

(x) উত্তরঃ রুবনের ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। ন্যানোটেকনোলজি হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে ন্যানোমিটার স্কেলে একটি বস্তুকে নিপুনভাবে ব্যবহার, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ধ্বংস বা সৃষ্টি করা যায়।
খাদ্য শিল্পে খাদ্য প্যাকেজিং এবং খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়নে ন্যানোটেকনোলজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য শিল্পে ন্যানোটেকনোলোজির প্রভাবসমূহ নিম্নরুপ:
খাদ্য প্যাকেজিং: ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে খাদ্য প্যাকেজিং-এর ক্ষেত্রে ন্যানো কণা যেমন- সিলভার কণা ব্যবহার করা হয় যা খাদ্যবস্তুর মধ্যে ব্যাকটেরিয়াকে সনাক্ত করে ধ্বংস করে। ফলে খাদ্যবস্তু অনেক দিন সুরক্ষিত থাকে।

খাদ্য উপাদানের রং টেক্সার ও স্বাদ বৃদ্ধিঃ বর্তমানে খাদ্য শিল্পে ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে ন্যানো স্কেলে খাদ্য উপাদান উৎপাদন হচ্ছে যা খাদ্যের রং, টেক্সার ও স্বাদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

খাদ্য সংরক্ষণ: খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ন্যানোপার্টিকেলের এন্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদানসমূহ খাদ্যকে সতেজ রাখে। রেফ্রিজারেটরের মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেটরের মূল উপকরণের সাথে ১০ ভাগ ন্যানো পার্টিকেল মেশানো হয়। ফলে খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আক্রমন রোধ করে খাদ্যকে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়ন: ন্যানোটেকনোলজীর মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যবস্তুতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং পুষ্টি উপাদান প্রদান করে। ফলে খাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।।

(xi) উত্তরঃ রুবনের ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোটেকনোলজি। যখন কোনো একটি বস্তুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কোনো বিশেষ প্রযুক্তি বা যন্ত্র ব্যবহার করে অণু বা পরমাণুগুলোকে ন্যানো মিটার স্কেলে বা ন্যানো পার্টিকেল রূপে পরিবর্তন করা হয় তখন সেই প্রযুক্তিকে ন্যানোটেকনোলজি বলে।
ন্যানো টেকনোলজির সুবিধা:

• ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহারে উৎপাদিত পণ্য মজবুত, টেকসই, আকারে ছোট ও হালকা হয়।
• ন্যানো রোবট ব্যবহার করে মানবদেহের অভ্যন্তরে অস্ত্রোপচার সম্ভব।
• ফুয়েল সেল তৈরিতে ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়।
• কম্পিউটারের গতি, দক্ষতা, মেমোরি ইত্যাদি বৃদ্ধি করা যায়।
• ন্যানো টেকনোলজির সাহায্যে ক্যান্সার শনাক্ত ও নিরাময় করা যায়।।

ন্যানো টেকনোলজির অসুবিধা:
• ন্যানো টেকনোলজির গবেষণা ও প্রয়োগ বেশ ব্যয়বহুল। ফলে এই প্রযুক্তির প্রয়োগে উৎপাদিত পণ্য এখনও অধিক দামী।
• ন্যানোটেকনোলজি পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হলে আণবিক শক্তি সহজলভ্য হয়ে যেতে পারে যা মানবজাতির জন্য বিপদজনক।
• ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মারাত্মক যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। বিধায় যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহতার আশংকা রয়েছে।
• ন্যানোপার্টিক্যাল অর্থাৎ ন্যানোপ্রডাক্ট মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পানি ও বায়ু দূষণ হতে পারে যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য মারত্মক ক্ষতিকর। চিপসের প্যাকেটজাতকরণের সময় অনেক দ্রুত কাজ করতে হয়। পাশাপাশি একই কাজ অনেকক্ষণ ধরে করা বিরক্তিকর ও একঘেয়ে। এজন্য প্যাকেটজাতকরণে রোবট ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

(xii) উত্তরঃ রুবনের অর্থ উপার্জনের কাজটি হলো-আউটসোর্সিং। এটি হচ্ছে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেয়া। আউটসোর্সিং এখন একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। আউটসোর্সিং শিল্পকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষিত বিরাট জনগোষ্ঠী এখন অর্থ উপার্জন করতে পারছে। আউটসোর্সিং এখন অনেকেরই পেশা হিসাবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর আউটসোর্সিং হতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার আয় করে। শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী এই শিল্পকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। কারো কাছে যদি ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি কম্পিউটার থাকে তাহলে সে যে কোন জায়গাতে বসেই ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর কাজগুলো করতে পারেন। ওয়েবসাইট তৈরি, থ্রিডি এনিমেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ছবি সম্পাদনা, ডাটা এন্ট্রি, লেখালেখি করা, কোন পণ্যের বাজার খুঁজে দেওয়া, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজ করা, ডেটা বিশ্লেষণ করা ইত্যাদিসহ আরো অসংখ্য কাজ এই পদ্ধতিতে করা সম্ভব। উন্নত বিশ্ব আউটসোর্সিং এ অনেক দূরে এগিয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশেও এই অনলাইন নির্ভর শিল্পটিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আউটসোর্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কয়েক কোটি লোক এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত হবে। এতে করে বেকারত্ব ঘুচিয়ে দেশ আয় করবে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা, তৈরি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান।

ঢাকা বোর্ড - ২০২৩
(ক) উত্তরঃ ন্যানোটেকনোলজি বা ন্যানোপ্রযুক্তি হলো পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞান।

(খ) উত্তরঃ তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে ড্রাইভারবিহীন গাড়িতে যাতায়াত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে সাহায্যকারী যন্ত্রটি হলো রোবট, যা অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন এবং নিখুঁত কর্মক্ষম স্বয়ংক্রিয় আধুনিক যন্ত্র। রোবটের সাহায্যে ড্রাইভারবিহীন গাড়িতে যাতায়াতের জন্য রোবটের মধ্যে ড্রাইভিং এর নানা নিয়ম কানুন (যেমন: ট্রাফিক সিগন্যাল, সড়ক চিহ্ন, স্পিড লিমিট, ওভারটেকিং, পার্কিং/নো পার্কিং এলাকা ইত্যাদি) প্রোগ্রাম করা হয়। গাড়িতে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্ক্যানার এবং সেন্সর ব্যবহার করে রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোগ্রাম অনুসারে গাড়ি চালাতে পারে। এক্ষেত্রে তার কাজটির জন্য মানুষকে আর কোনো কিছু করতে হয় না।

(গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ ? চিহ্নিত স্থানের প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোনো জীবের জিনোমকে নিজের সুবিধানুযায়ী সাজিয়ে নেয়াকেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জেনেটিক মডিফিকেশন বলে। জিনোম হলো কোনো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের তথ্য। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন-সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, তৈল বীজ, টমেটো, পেঁপে ইত্যাদির জিন বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি, পোকা-মাকড় ও অন্যান্য উদ্ভিদনাশক ছত্রাক ও ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাচ্ছে। জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত ফসল অধিক খরা ও ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে।

(ঘ) উত্তরঃ দৃশ্যকল্প-২ এর প্রযুক্তিটি হলো রোবটিক্স। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে রাজত্ব করবে রোবটিক্স প্রযুক্তির রোবট। "রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা; যা মানুষ যেভাবে কাজ করে তা সেভাবে কাজ করতে পারে অথবা এর কাজের ধরন দেখে মনে হবে এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে।"

কম্পিউটার রোবটের সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। সকল রোবটের কাজের ধারা পূর্ব থেকে ঠিক করে দেওয়া থাকে। রোবট শুধুমাত্র তাকে নির্দেশিত কাজের ধারা অনুযায়ী সাড়া দিয়ে থাকে। প্রত্যেকটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে নির্দেশনা রোবটের মেমরিতে তৈরি করে দিতে হয়। রোবট অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন ও নিখুঁত কর্মক্ষম একটি যন্ত্র। এটা একটি স্বনিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার পদ্ধতি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে রোবট এর গুরুত্ব/প্রয়োগ:
• শিল্প-কারখানায় পণ্য উৎপাদন, সংযোজন, প্যাকিং এবং পরিবহনের জন রোবটের ব্যবহার ফলপ্রসূ। যেমন-বর্তমানে গাড়ী ও বিমান সংযোজন ইত্যাদি কাজে রোবটের সফল ব্যবহার হচ্ছে।

• যে সব ক্ষেত্রে অতি সূক্ষ্ম কাজ করা দরকার হয় যেমন ইলেকট্রনিক্স এর IC গুলো বানানোর জন্য এবং PCB (Printed Circuit Board) বানানোর জন্য রোবট ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে হাতে তৈরি জিনিস সঠিক নাও হতে পারে। যেমন-কম্পিউটারের মাদারবোর্ডসহ অন্যান্য সার্কিট বোর্ড তৈরিতে রোবট ব্যবহৃত হয়।

• চিকিৎসা ক্ষেত্রে সার্জারির কাজে রোবট সফলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।

• নিউক্লিয়াস রিয়্যাক্টরসহ বিভিন্ন বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রোবট ব্যবহার করা হয়।

• উন্নত বিশ্বে নিরাপত্তার কাজে রোবটের সফল ব্যবহার হচ্ছে।

• বাসা-বাড়ীতে কাজের লোকের বিকল্প হিসাবে রোবটের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

রোবট এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পৃথিবীকে প্রকৃতরূপে বিশ্বগ্রামে রূপান্তর করে তুলবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময়ে সকল উৎপাদন ব্যবস্থা হবে রোবট নির্ভর। অতি ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ থেকে বড় বড় যন্ত্র তৈরিতে রোবটের ব্যবহার পরিলক্ষিত হবে। সুতরাং, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে বিনোদন, চিকিৎসা, ড্রাইভিং, নির্মাণ শ্রমিক ইত্যাদি সকল কাজে রোবট ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
(ক) উত্তরঃ CAD এর পূর্ণরূপ হলো Computer Aided Design (কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন)। এটি একটি বিশেষ সফটওয়্যার যা ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিভিন্ন কাজ যেমন- ড্রাফটিং, ডিজাইন কিংবা সিমুলেশন ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।

(খ) উত্তরঃ বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে শনাক্তকরণের জন্য আচরণিক ডেটা (যেমন: কন্ঠস্বর, হাতের স্বাক্ষর এবং কী-বোর্ড টাইপিং) ব্যবহার করা হয়। কোনো ব্যক্তির আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো ইনপুট ডেটা হিসেবে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। যেমন কন্ঠস্বর শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে বাহারকারীর কণ্ঠস্বরকে মাইক্রোফোনের মাধ্যমে ধারণপূর্বক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর সাহায্যে ইলেকট্রিক সিগন্যালে রূপান্তর করে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সংরক্ষিত কণ্ঠস্বর আচরণিক ডেটার সাথে মিলিয়ে ব্যক্তি শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

(গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত ডাক্তারের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে তারা এটিকে বাস্তব পরিবেশ হিসেবে মনে করে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে অনুকরণকৃত পরিবেশ হুবহু বাস্তব পৃথিবীর মতো হতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিমজ্জিত হয়ে যায়। তথ্য আদান-প্রদানকারী বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস সংবলিত চশমা, headsets, gloves, suit ইত্যাদি পরিধান করার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে বাস্তবকে উপলব্ধি করা হয়। একটি typical VR format-এ একজন ব্যবহারকারী ত্রিমাত্রিক স্ক্রিন সংবলিত একটি হেলমেট পরে এবং তার মধ্যে দিয়ে বাস্তব থেকে অনুকরণকৃত অ্যানিমেটেড বা প্রাণবন্ত ছবি দেখে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে মাল্টিসেন্সর হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টার সেন্সসমূহের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকে যা মানব ব্যবহারকারীদেরকে কম্পিউটার-সিমুলেটেড অবজেক্ট, স্পেস, কার্যক্রম এবং বিশ্বকে একবারে বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা প্রদানে সক্ষম করে তোলে।

উদ্দীপকে ডঃ জে সি দেব উপরে বর্ণিত উপায়ে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি সিমুলেটেড পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।

(ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত ডা. জে. সি. দেব এর চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক ও রোগাক্রান্ত টিস্যুকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া। ক্রায়োসার্জারিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্র ব্যবহৃত হয়। যেমন কম্পিউটার সিস্টেম ও পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রামের মাধ্যমে সার্জারির সময় সার্জারি এলাকার চিত্র অর্জন, সার্জারির এলাকার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসার মাত্রা নির্ণয়, সার্জারির স্থানে যেভাবে ক্রায়োপ্রোব যাবে তার চিত্র অর্জন, বাস্তবে ক্রায়োপ্রোৰ যেভাবে যাচ্ছে তার চিত্র প্রদর্শন ইত্যাদি। আবার, ক্রায়োসার্জারি নিয়ে গবেষণা ও মত বিনিময়ের জন্য চিকিৎসকগণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ইন্টারনেট, টেলিকনফারেন্সিং ও ভিডিওকনফারেন্সিং ব্যবহার করেন। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণের জন্য চিকিৎসকেরা ডেটাবেজ ব্যবহার করে থাকেন যাতে পরবর্তীতে খুব সহজেই গবেষণার ফলাফল যেকোনো সময় অ্যাকসেস করতে পারেন। ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় চিকিৎসকেরা প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার করে বাস্তবে সার্জারি করার অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন। আবার পুরো সার্জারির প্রক্রিয়াটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে। সুতরাং, ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ, সম্পাদন, তথ্য সংরক্ষণসহ সকল ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির অবদান রয়েছে।

রাজশাহী বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেগকারী বিজ্ঞাননির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) বা অনুভবে বাস্তবতা কিংবা কল্পবাস্তবতা বলে।

(খ) উত্তরঃ আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের মান নির্ণয়ে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। উৎপাদনের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কম্পিউটার চালিত রোবট ব্যবহৃত হয়। গ্রুপ অব কোম্পানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে কেউ ইলেকট্রনিক মেইল, টেলিকনফারেন্স, বুলেটিন বোর্ড ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে এবং কর্মরত শ্রমিকের কাজের সময়, বেতন ও ওভারটাইম হিসাব করা জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

(গ) উত্তরঃ ডাক্তার ফুয়াদের চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক ও রোগাক্রান্ত টিস্যুকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া। ক্রায়োথেরাপিতে টিউমার টিস্যুর তাপমাত্রা ১২ সেকেন্ডের ভিতরে কমিয়ে - ৪১°C থেকে -১৯৬°C তাপমাত্রায় নিয়ে আসা হয়। এই সময় একটি সূচের প্রান্ত দ্বারা টিউমার টিস্যুর ভিতরে খুব দ্রুত আর্গন গ্যাসের নিঃসরণ করানো হয়। তাপমাত্রার অত্যাধিক হ্রাসের ফলে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ঐ টিস্যুটি একটি বরফপিন্ডে পরিণত হয়। বরফপিন্ডের ভেতরে টিউমার টিস্যুটি আটকা পড়ে গেলে এতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ - ১৯৬০ সে. তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন পরিবহন সম্ভব নয়। এর ফলে জমাটবদ্ধ অবস্থায় টিউমার টিস্যুটির ক্ষয় সাধিত হয়। আবার সূচের প্রান্ত দিয়ে টিউমার টিস্যুটির ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে টিস্যুটির তাপমাত্রা ২০০-৪০° সে. এ উঠানো হয়। তখন জমাটবদ্ধ টিউমার টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং টিস্যুটি ধ্বংস হয়ে যায়।

(ঘ) উত্তরঃ সাজ্জাদ সাহেবের গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির সাহায্যে রিকম্বিনেট DNA ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ভ্যাকসিন, হরমোন, ইন্টারফেরন, অ্যান্টিজেন, অ্যান্টিবডি প্রভৃতি উৎপাদন করা হচ্ছে।

প্রকৃতিতে বিদ্যমান ইনসুলিনের পরিমাণ কম হওয়ায় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মানুষের জিনকে ব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে ইনসুলিন উৎপাদন করা হয়। যা ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। ইনসুলিনের মতো ইন্টারফেরন উৎপাদনেও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারফেরন হলো এক ধরনের উচ্চ আণবিক ওজন সম্পন্ন প্রোটিন যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ইন্টারফেরন তৈরির ফলে খুব সহজেই হেপাটাইটিস- B ও জলাতঙ্কের মতো জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এছাড়াও হৃদরোগ চিকিৎসা শল্য চিকিৎসা, রক্ত সংবহন জটিলতা সহ নানা জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার ওষুধ তৈরিতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবদান রয়েছে।

কুমিল্লা বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ ন্যানো টেকনোলজি বা ন্যানোপ্রযুক্তি হলো পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞান।

(খ) উত্তরঃ তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে অনেক যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে যা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মানুষের বিকল্প হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। এমনই একটি যন্ত্র হলো রোবট, যা অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন এবং নিখুঁত কর্মক্ষম স্বয়ংক্রিয় আধুনিক যন্ত্র। কারখানায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবটের মধ্যে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রোগ্রাম করা থাকে। বিভিন্ন স্ক্যানার, সেন্সর ও ক্যামেরার ব্যবহার করে রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোগ্রাম অনুসারে কারখানার ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে তার কাজটির জন্য মানুষকে আর কোনো কিছু করতে হয় না।

(গ) উত্তরঃ ডাঃ ইফাদের চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক ও রোগাক্রান্ত টিস্যুকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া।

ক্রায়োথেরাপিতে টিউমার টিস্যুর তাপমাত্রা ১২ সেকেন্ডের ভিতরে কমিয়ে - ৪১°C থেকে - ১৯৬°C তাপমাত্রায় নিয়ে আসা হয়। এই সময় একটি সূচের প্রান্ত দ্বারা টিউমার টিস্যুর ভিতরে খুব দ্রুত আর্গন গ্যাসের নিঃসরণ করানো হয়। তাপমাত্রার অত্যধিক হ্রাসের ফলে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ঐ টিস্যুটি একটি বরফপিন্ডে পরিণত হয়। বরফপিন্ডের ভেতরে টিউমার টিস্যুটি আটকা পড়ে গেলে এতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ -১৯৬০ সে. তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন পরিবহন সম্ভব নয়। এর ফলে জমাটবদ্ধ অবস্থায় টিউমার টিস্যুটির ক্ষয় সাধিত হয়। আবার সূচের প্রান্ত দিয়ে টিউমার টিস্যুটির ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে টিস্যুটির তাপমাত্রা ২০০-৪০° সে. এ উঠানো হয়। তখন জামাটবদ্ধ টিউমার টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং টিস্যুটি ধ্বংস হয়ে যায়।

(ঘ) উত্তরঃ ডাঃ সাহেবের চেম্বারে প্রবেশ পথে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগুলো হলো বায়োমেট্রিক্স। প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে প্রথম দরজায় আঙুলের ছাপ এবং দ্বিতীয় দরজায় সম্পূর্ণ হাতের ছাপ ব্যবহৃত হয়েছে। আঙুলের ছাপ পদ্ধতিতে পূর্বে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের টেম্পলেটের সাথে ম্যাচ করে কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। অপরদিকে হাতের ছাপ বা রেখা পদ্ধতিতে হাতের আকার, পুরুত্ব হাতের বিন্যাস ও আঙুলের দৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

আঙুলের ছাপ' ও হাতের ছাপ প্রযুক্তি দুটির মধ্যে আমাদের দেশে আঙুলের ছাপ প্রযুক্তি বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ কায়িক পরিশ্রম করে এমন মানুষ বা হাতে কিছু লেগে থাকলে হাতের রেখা পদ্ধতি কার্যকর নাও হতে পারে। প্রত্যেক মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সারাজীবন ধরে অপরিবর্তিত থাকে। প্রতিটি ব্যক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট এতোটাই স্বতন্ত্র যে দুটি যমজ শিশু একই ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আলাদা করা যায়। এক্ষেত্রে আগে থেকেই মানুষের আঙুলের ছাপ মেশিনে ধারণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে এই রিডার আঙুলের নিচের অংশে ত্বকে রীভ করে সংরক্ষিত ছাপের সাথে তুলনা করে মিলে গেলে অ্যাকসেস প্রদান করে। এ পদ্ধতিতে সফলতার পরিমাণও বেশি। এ সব কারণে আমাদের দেশে আঙুলের ছাপ পদ্ধতিই বহুল ব্যবহৃত। হাতের ছাপ পদ্ধতিতেও একইভাবে ব্যক্তি শনাক্ত করা গেলেও এর সফলতার হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এর ব্যবহার কম।

যশোর বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ ক্রায়োসার্জারিতে রোগাক্রান্ত স্থানে ক্রায়োজনিক গ্যাস প্রয়োগের জন্য ব্যবহৃত অত্যন্ত সূক্ষ্ম সূচযুক্ত নলকে ক্রায়োপ্রোব বলে।

(খ) উত্তরঃ তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে অনেক যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে যা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মানুষের বিকল্প হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। এমনই একটি যন্ত্র হলো রোবট, যা অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন এবং নিখুঁত কর্মক্ষম স্বয়ংক্রিয় আধুনিক যন্ত্র। কারখানায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবটের মধ্যে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রোগ্রাম করা থাকে। বিভিন্ন স্ক্যানার, সেন্সর ও ক্যামেরার ব্যবহার করে রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোগ্রাম অনুসারে কারখানার ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করে। এক্ষেত্রে তার কাজটির জন্য মানুষকে আর কোনো কিছু করতে হয় না।

(গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের বলটি তৈরির প্রযুক্তিটি হলো ন্যানোপ্রযুক্তি। ন্যানোপ্রযুক্তি হচ্ছে পারমাণবিক বা আণবিক মাত্রার কার্যক্ষম প্রকৌশল শাস্ত্র যা কোনো ডিভাইস বা সিস্টেমের কাজ এবং আরও অধিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। এটি পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞান। একটি উপাদানের গোড়ার দিকের আবিষ্কার থেকে বর্তমানে উন্নয়নকৃত পদ্ধতি এবং সামগ্রী ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পণ্য বা উপাদান তৈরির জন্য ন্যানোপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হয়। ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে অণুর গঠন-দেখা সম্ভব। এর একটি উদাহরণ হল STM (Scanning Tunneling Microscope)। ১৯৮০ সনে IBM -এর গবেষকরা প্রথম STM আবিষ্কার করেন। যা দিয়ে অণুর গঠন পর্যন্ত দেখা সম্ভব। এ যন্ত্রটির আবিষ্কারই ন্যানো প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে।

(ঘ) উত্তরঃ ব্যবহারিক ক্লাসে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। দক্ষ জনবল তৈরিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ভূমিকা নিম্নরূপঃ

যানবাহন চালানো ও প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সবচেয়ে বাস্তবমুখী ব্যবহার হয়ে থাকে ফ্লাইট সিমুলেটরে যেখানে বৈমানিকরা বাস্তবে আসল বিমান উড্ডয়নের পূর্বেই বিমান পরিচালনার বাস্তব জগৎকে অনুধাবন করে থাকেন। এ ছাড়াও মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।

শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন-শেখানো কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায়। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন যা কোনো অবস্থাতেই বাস্তবে অবলোকন সম্ভব নয় সেগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা সম্ভব হচ্ছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুবৃহৎ পরিসরে এর ব্যবহার ব্যাপক। জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদিসহ নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

সামরিক প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে সৈনিকদেরকে উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়। সত্যিকারের যুদ্ধকালীন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সৈনিকেরা তাদের সঠিক করণীয় সম্পর্কে আগেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে।

ব্যবসা বাণিজ্যে: উৎপাদিত কিংবা প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন, বিপণন কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। কোনো বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর দ্রব্য বাজারজাত করার আগে কোনো কর্মচারীর জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সেগুলো পরীক্ষা করে নেওয়া সম্ভব হয়।
সুতরাং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বাস্তবের ন্যায় ত্রিমাত্রিক সিমুলেটেড পরিবেশ সৃষ্টি করে দক্ষ জনবল তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

চট্টগ্রাম বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে এক প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক এবং রোগাক্রান্ত টিস্যু ধ্বংস করা হয়।

(খ) উত্তরঃ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণ সম্ভব। ব্যক্তি শনাক্তকরণের প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্স। বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কোন ব্যক্তির দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞানে বায়োমেট্রিক্সকে ব্যক্তি শনাক্তকরণ এবং কোন সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীদের কোন প্রোগ্রাম, সিস্টেম বা কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের একটি দল হতে কাউকে আলাদাভাবে শনাক্ত করার কাজেও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

(গ) উত্তরঃ উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এর প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতন্য উদ্রেককারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তিটি ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপ:

বিনোদন ক্ষেত্রে: নানা ধরনের বিনোদনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাথে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ত্রিমাত্রিক পদ্ধতিতে নির্মিত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নির্ভর কল্পকাহিনি, পৌরাণিক কাহিনি, কার্টুন, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ইত্যাদি মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

যানবাহন চালানো ও প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সবচেয়ে বাস্তবমুখী ব্যবহার হয়ে থাকে ফ্লাইট সিমুলেটরে যেখানে বৈমানিকরা বাস্তবে আসল বিমান উড্ডয়নের পূর্বেই বিমান পরিচালনার বাস্তব জগৎকে অনুধাবন করে থাকেন। এ ছাড়াও মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।

শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন-শেখানো কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায়। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন যা কোনো অবস্থাতেই বাস্তবে অবলোকন সম্ভব নয় সেগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা সম্ভব হচ্ছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুবৃহৎ পরিসরে এর ব্যবহার ব্যাপক। জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদিসহ নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

সামরিক প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে সৈনিকদেরকে উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়। সত্যিকারের যুদ্ধকালীন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সৈনিকেরা তাদের সঠিক করণীয় সম্পর্কে আগেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে।

ব্যবসা বাণিজ্যে: উৎপাদিত কিংবা প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন, বিপণন, কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। কোনো বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর দ্রব্য বাজারজাত করার আগে কোনো কর্মচারীর জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে ভার্চুয়াল কিয়েলিটির পরিবেশে সেগুলো পরীক্ষা করে নেওয়া সম্ভব হয়।

(ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এর প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোনো জীবের জিনোমকে নিজের সুবিধানুযায়ী সাজিয়ে নেয়াকেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বলে। আমাদের দেশে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন: সয়াবিন, পাট, ভুট্টা, তুলা, তৈল বীজ, টমেটো, পেঁপে ইত্যাদির জিন বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি, পোকা-মাকড় ও অন্যান্য উদ্ভিদনাশক ছত্রাক ও ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাচ্ছে। আমাদের দেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করেন। যার ফলে উচ্চ ফলনশীল, দীর্ঘস্থায়ী ও ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য সম্ভব হয়েছে। একইভাবে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রিকম্বিনেট DNA এর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির সাহায্যে রিকম্বিনেট DNA ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন, হরমোন, ইন্টারফেরন, অ্যান্টিজেন, অ্যান্টিবডি প্রভৃতি উৎপাদন করা হচ্ছে। অন্যদিকে রোগ শনাক্তকরণ ও জিন থেরাপির মাধ্যমে সুস্থ-সবল শিশুর জন্মদানে এ প্রযুক্তি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। রিকম্বিনেট DNA ব্যবহার করে উদ্ভিদে আগাছানাশক প্রতিরোধী জিন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে উদ্ভিদকে আগাছানাশক প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও নানা রকম কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে এ গবেষণা সাফল্যের সাথে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি বর্তমানে রিকম্বিনেট DNA-এর ব্যবহার করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন অনুজীব সৃষ্টি করা হচ্ছে যা বিভিন্ন বর্জ্য পয়ঃনিষ্কাশন, শিল্প বর্জ্য, তেল ইত্যাদি পরিশোধনের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর ফলে আমাদের অনেক বায়ু ও পানিঘটিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমেছে।

সুতরাং, দীর্ঘস্থায়ী, ভাইরাস প্রতিরোধ সম্পন্ন ও উচ্চ ফলনশীল শস্য উৎপাদন, চিকিৎসা বিজ্ঞান, ওষুধ তৈরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

বরিশাল বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ যে বাসস্থানের মাধ্যমে রিমোট কন্ট্রোলিং পদ্ধতিতে নিজ ঘরে বসেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিততকরণ, কক্ষের তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধি করা, লাইটিং সিস্টেম কন্ট্রোল সহ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ, দূরবর্তী দেশের বন্ধু বান্ধব এর সাথে সামনাসামনি কথোপকথন ইত্যাদি সুবিধাসমূহ পাওয়া যায় তাকে স্মার্ট হোম বলে।

(খ) উত্তরঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে টেলিমেডিসিন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে কোন ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, বিশেষায়িত নেটওয়ার্ক ইত্যাদির সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াকে টেলিমেডিসিন বলা হয়। টেলিমেডিসিন এক ধরনের সেবা। টেলিমেডিসিন প্রযুক্তির মাধ্যমে এক দেশে অবস্থান করে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা যায়। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশের নাগরিকগণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসকের কাছ থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ নিতে পারেন। ফলে দূরবর্তী অঞ্চলের নাগরিকগণ জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে না এসেও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

(গ) উত্তরঃ ডাঃ 'ক' এর চিকিৎসা সেবা দেয়ার পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে অত্যধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক ও রোগাক্রান্ত টিস্যুকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া।
ক্রায়োথেরাপিতে টিউমার টিস্যুর তাপমাত্রা ১২ সেকেন্ডের ভিতরে কমিয়ে -৪১°C থেকে -১৯৬°C তাপমাত্রায় নিয়ে আসা হয়। এই সময় একটি সূচের প্রান্ত দ্বারা টিউমার টিস্যুর ভিতরে খুব দ্রুত আর্গন গ্যাসের নিঃসরণ করানো হয়। তাপমাত্রার অত্যধিক হ্রাসের ফলে কোষের পানি জমাটবদ্ধ হয়ে ঐ টিস্যুটি একটি বরফপিন্ডে পরিণত হয়। বরফপিন্ডের ভেতরে টিউমার টিস্যুটি আটকা পড়ে গেলে এতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ -১৯৬° সে. তাপমাত্রায় রক্ত ও অক্সিজেন পরিবহন সম্ভব নয়। এর ফলে জমাটবদ্ধ অবস্থায় টিউমার টিস্যুটির ক্ষয় সাধিত হয়। আবার সূচের প্রান্ত দিয়ে টিউমার টিস্যুটির ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস নিঃসরণের মাধ্যমে টিস্যুটির তাপমাত্রা ২০০-৪০° সে. এ উঠানো হয়। তখন জমাটবদ্ধ টিউমার টিস্যুটির বরফ গলে যায় এবং টিস্যুটি ধ্বংস হয়ে যায়।

(ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকে ডাঃ 'ক' এর ওটিতে প্রবেশের প্রযুক্তিটি হলো ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং গবেষক 'খ' এর কক্ষে প্রবেশ করার প্রযুক্তিটি হলো ভয়েস রিকোগনিশন প্রযুক্তি। এ দুটি বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মধ্যে ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি উত্তম। কারণ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তিতে মানুষের আঙুলের ছাপ বা টিপসইকে ফিংগার প্রিন্ট রিডারের সাহায্যে ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে তা পূর্ব থেকে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপ বা টিপসইয়ের সাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনধিকার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারে খরচ তুলনামূলক কম হয় এবং সফলতার পরিমাণ প্রায় শতভাগ।

অপরদিকে, ভয়েস রিকোগনিশন পদ্ধতিতে একজন ব্যবহারকারীর কন্ঠকে ডেটাবেজে সংরক্ষিত ভয়েস ডেটা ফাইলের সাথে তুলনা করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রথমে সকল ব্যবহারকারীর কন্ঠকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর সাহায্যে ইলেকট্রিক সিগন্যালে রূপান্তর করে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে হয়। বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানে টাইম এবং উপস্থিতি নির্ণয়ে ভয়েস রিকোগনিশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে অসুস্থতাজনিত কারণ যেমন- ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি ইত্যাদির কারণে কোনো ব্যবহারকারীর কন্ঠ পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে অনেক সময় সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না।
(ক) উত্তরঃ বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সকল দেশের মধ্যে বিস্তৃত ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনকে ই-কর্মাস (E- Commerce) বলে।

(খ) উত্তরঃ ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহৎ স্কেলে পণ্যোৎপাদন সম্ভব হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য অত্যন্ত মজবুত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই এবং আকারে সূক্ষ্ম, ছোট ও হালকা হয়। ন্যানোপ্রযুক্তির সাহায্যে ভবিষ্যতে স্মার্ট ওষুধের মাধ্যমে প্রাণঘাতী ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ন্যানো রোবট, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কার্যকরী ও সস্তায় শক্তি উৎপাদনসহ পানি ও বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব হবে বলে গবেষকগণ আশাবাদী। এজন্যই আগামী বিশ্ব হবে ন্যানোটেকনোলজির বিশ্ব।

(গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত গাড়িটি তৈরি করার প্রযুক্তি হলো রোবটিক্স। টেকনোলজির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়। ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ তৈরীতে রোবট ব্যবহৃত হয়। কারণ এসব ক্ষুদ্র যন্ত্র হাতে তৈরী করলে সঠিক নাও হতে পারে।
"রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা; যা মানুষ যেভাবে কাজ করে তা সেভাবে কাজ করতে পারে অথবা এর কাজের ধরন দেখে মনে হবে এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে।"
রোবটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করা হয়। কম্পিউটার রোবটের সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। সকল রোবটের কাজের ধারা পূর্ব থেকে ঠিক করে দেওয়া থাকে। রোবট শুধুমাত্র তাকে নির্দেশিত কাজের ধারা অনুযায়ী সাড়া দিয়ে থাকে। প্রত্যেকটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে নির্দেশনা রোবটের মেমরিতে তৈরি করে দিতে হয়। রোবট অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন ও নিখুঁত কর্মক্ষম একটি যন্ত্র। এটা একটি স্বনিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার পদ্ধতি।

(ঘ) উত্তরঃ উদ্দীপকের বাড়িটি হলো আধুনিক বাসস্থান বা স্মার্ট হোম। নিম্নে সাধারণ বাড়ির তুলনায় আধুনিক বাড়ি বা স্মার্ট হোমের জনপ্রিয়তা ব্যাখ্যা করা হলো:

সাধারণ বাড়ি বা বাসস্থান বলতে আমরা বুঝি যেখানে মানুষ বাস করে। সাধারণ বাসস্থানে প্রয়োজনের সকল সুবিধা (যেমন: লাইট, ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি) বিদ্যমান থাকে। কিন্তু সেগুলো পরিচালনার জন্য ব্যবহারকারীকে নিজ হাতে পাওয়ার সুইচ অন অথবা অফ করতে হয়। অপরদিকে স্মার্ট হোম হলো এমন একটি বাসস্থান যেখানে হোম অটোমেশন সিস্টেম (Home automation systemy এর মাধ্যমে নিজের ঘরে অথবা দূরবর্তী কোথাও বসে লাইট, ফ্যান কন্ট্রোল সহ হোম সিকিউরিটির মতো সব ধরনের ডিজিটাল সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। স্মার্ট হোম বা আধুনিক বাসস্থানের প্রতিটি ডিভাইস (যেমন: টেলিভিশন, সাউন্ড সিস্টেম, লাইট, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, রেফ্রিজারেটর, ফায়ার সিস্টেম, শাওয়ার সিস্টেম ইত্যাদি) একটি কেন্দ্রীয় কন্টোলিং ডিভাইসের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা হয়। স্মার্ট হোম হলো এক ধরনের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস পয়েন্টের মতো, যেখানে বসবাসের জন্য সব উপযোজন পাওয়া যায়। বাসস্থানের সর্বাধিক সিকিউরিটির পাশাপাশি বাসস্থানে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকলে স্মার্ট হোম তার জন্য সত্যিকারের সহায়তা হতে পারে। কেননা, কন্ঠস্বরের মাধ্যমে দরজা, জানালা খোলা বা বন্ধ করা লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, টেলিভিশন চালু কিংবা বন্ধ করা ইত্যাদি কাজ তখন সহজেই করা সম্ভব হয়ে যায়। এসকল সুযোগ সুবিধার কারনে সাধারণ বাড়ির তুলনায় স্মার্ট বাড়ির জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সিলেট বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসায় রোগের আক্রান্ত স্থান ও রোগের ধরনানুযায়ী নির্দিষ্ট শীতলতায় পৌছানোর জন্য যেসকল তরল গ্যাস ব্যবহৃত হয়, তাদেরকে ক্রায়োজনিক এজেন্ট বলা হয়। ক্রায়োজনিক এজেন্ট হিসেবে তরল নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আর্গন, কার্বন-ডাই অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাসসমূহ ব্যবহার করা হয়।

(খ) উত্তরঃ সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাল্পনিক ত্রিমাত্রিক পরিবেশ অর্থাৎ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সত্যিকার যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করে সৈনিকদের উন্নত ও নিখুঁত প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায়। এ ছাড়াও মোটরগাড়ি, জাহাজ, বিমান ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী খুব সহজেই বাস্তবে মোটরগাড়ি, জাহাজ বা বিমান চালানোর নানা নিয়ম-কানুন আয়ত্ত করতে পারে এবং বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ অর্জন করতে পারে।

(গ) উত্তরঃ উদ্দীপকে উল্লিখিত গাড়ি চলাচলে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো রোবটিক্স। টেকনোলজির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়। ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ তৈরীতে রোবট ব্যবহৃত হয়। কারণ এসব ক্ষুদ্র যন্ত্র হাতে তৈরী করলে সঠিক নাও হতে পারে। "রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা: যা মানুষ যেভাবে কাজ করে তা সেভাবে কাজ করতে পারে অথবা এর কাজের ধরন দেখে মনে হবে এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আছে।"
রোবটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করা হয়। কম্পিউটার রোবটের সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করে। সকল রোবটের কাজের ধারা পূর্ব থেকে ঠিক করে দেওয়া থাকে। রোবট শুধুমাত্র তাকে নির্দেশিত কাজের ধারা অনুযায়ী সাড়া দিয়ে থাকে। প্রত্যেকটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে নির্দেশনা রোবটের মেমরিতে তৈরি করে দিতে হয়। রোবট অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন ও নিখুঁত কর্মক্ষম একটি যন্ত্র। এটা একটি স্বনিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার পদ্ধতি।
রোবটের সাহায্যে ড্রাইভারবিহীন গাড়িতে যাতায়াতের জন্য রোবটের মধ্যে ড্রাইভিং এর নানা নিয়ম কানুন (যেমন: ট্রাফিক সিগন্যাল, সড়ক চিহ্ন, স্পিড লিমিট, ওভারটেকিং, পার্কিং/নো পার্কিং এলাকা ইত্যাদি) প্রোগ্রাম করা হয়। গাড়িতে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্ক্যানার এবং সেন্সর ব্যবহার করে রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রোগ্রাম অনুসারে গাড়ি চালাতে পারে। এক্ষেত্রে তার কাজটির জন্য মানুষকে আর কোনো কিছু করতে হয় না।

(ঘ) উত্তরঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ পদ্ধতি এবং গবেষণার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি। শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতির একটি কৌশল হলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট হলো কোনো ব্যক্তিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করার জন্য উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপকে শনাক্তকারী একক হিসেবে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পূর্ব হতেই আঙুলের ছাপ পড়তে পারে এমন মেশিনের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার) সাহায্যে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। পরবর্তীতে যখন একই ব্যক্তি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারে আঙুল রাখে তখন যে আঙুলের ছাপের ছবি তৈরি হয় তা পূর্বে ডেটাবেজে রক্ষিত ছবির সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। তুলনামূলকভাবে কমদামী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সৃষ্টি এবং প্রচুর ডেটা রাখতে পারে বলে আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অন্যান্যদের প্রবেশ ও বের হবার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে কোনো জীবের জিনোমকে নিজের সুবিধানুযায়ী সাজিয়ে নেয়াকেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জেনেটিক মডিফিকেশন বলে। জিনোম হলো কোনো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের তথ্য। জিনপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব থেকে তৈরি হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধপত্র। জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের (যেমন: হাঁপানি, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি) চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো রিকম্বিনেট ডিএনএ (DNA) তৈরি করা যা দিয়ে প্রয়োজন মতো ও পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ মানব ইনসুলিন ও মানুষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন উৎপাদন করতে সক্ষম।

দিনাজপুর বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কোনো ব্যক্তির দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা সনাক্ত করা হয়।

(খ) উত্তরঃ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বছর আমের ফলন সম্ভব। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির রিকম্বিনেট DNA এর মাধ্যমে যেসব জিন পুষ্টির বাহক, ফলবর্ধন সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং সারা বছর ফলনশীল সেসব জিনকে বিভিন্ন নিকটবর্তী বা দূরবর্তী যেকোনো উদ্ভিদ থেকে সংগ্রহ করে আমের চারায় ঢুকিয়ে দিয়ে সারা বছর আমের আশাতীত ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মেমরি ডিভাইস তৈরির প্রযুক্তিটি ন্যানো- টেকনোলজি। ন্যানো টেকনোলজি বা ন্যানো প্রযুক্তি হলো পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতিক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব ও বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর বিজ্ঞান। বর্তমান সময়ে কম্পিউটার প্রযুক্তির সাথে ন্যানো টেকনোলজির একটি নিবিড় সম্পর্ক বিরাজ করছে। কারণ কম্পিউটারের অভ্যন্তরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ন্যানোমিটার স্কেলের সার্কিট দ্বারা মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি হচ্ছে। বর্তমান মেমরিতেও ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে কম্পিউটারের মেমরির তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেজন্য এখন বাজারে টেরাবাইট সাইজের মেমরি ডিভাইস পাওয়া যাচ্ছে।

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ডিভাইসটি উন্নত করার প্রযুক্তিটি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দের অর্থ হচ্ছে কৃত্রিম বাস্তবতা। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ যা বাস্তব মনে হয়। গবেষণা কার্যক্রমে জটিল ও কঠিন বিষয়গুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেশন ও মডেলিং করে গবেষণকদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায়।

উদ্দীপকে উল্লিখিত ডিভাইসটি উন্নত করার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে ডিভাইসটির ত্রি-মাত্রিক মডেল তৈরি করা হয়। ফলে যন্ত্র প্রকৌশলী ডিভাইসটি উন্নত করার জটিল কাজগুলো বাস্তবের ন্যায় ত্রিমাত্রিক কাল্পনিক পরিবেশে সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে বাস্তবে ডিভাইসটি উন্নয়নের সময় যেসকল সমস্যা হতে পারে তা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং সেগুলো এড়িয়ে খুব সহজেই সঠিকভাবে ডিভাইসটি উন্নয়ন করতে পারবে।

অর্থাৎ, গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন ইত্যাদি যা কোনো অবস্থাতেই বাস্তবে অবলোকন সম্ভব নয় সেগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা সম্ভব। সুতরাং, মেমরি ডিভাইসটি উন্নত করার কাজে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের যথার্থতা রয়েছে।
(ক) উত্তরঃ HTML ডকুমেন্টে ওপেনিং বা শুরুর ট্যাগ থেকে আরম্ভ করে ক্লোজিং বা শেষ ট্যাগ পর্যন্ত সকল কিছুকে HTML এলিমেন্ট বলে।

(খ) উত্তরঃ < > < anchor> বা < a> ট্যাগ ব্যবহার করা হয় ইন্টারনাল বা এক্সটারনাল হাইপারলিংক করার জন্য। অ্যাংকর দ্বারা যেমন নৌকাকে বেঁধে রাখা হয় তেমনি < a> ট্যাগ দ্বারা এক পেজের সাথে অন্য পেজের লিংক করা যায়।
যেমন: < a href="http://www.google.com"> Google

(গ) উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি। মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিই হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি। শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতির একটি কৌশল হলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট হলো কোনো ব্যক্তিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করার জন্য উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপকে শনাক্তকারী একক হিসেবে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির আঙুলের ছাপ পূর্ব হতেই আঙুলের ছাপ পড়তে পারে এমন মেশিনের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার) সাহায্যে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। পরবর্তীতে যখন একই ব্যক্তি ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডারে আঙুল রাখে তখন যে আঙুলের ছাপের ছবি তৈরি হয় তা পূর্বে ডেটাবেজে রক্ষিত ছবির সাথে মিলিয়ে শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে মেশিনটি আঙুলের রেখার বিন্যাস, ত্বকের টিস্যু এবং ত্বকের নিচের রক্ত সঞ্চালনের ওপর ভিত্তি করে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপচিত্র তৈরি করে।

(ঘ) উদ্দীপকের প্রযুক্তি দুটি হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির ফিঙ্গার প্রিন্ট এবং আইরিশ ও রেটিনা স্ক্যানিং দ্বারা ব্যক্তি শনাক্তকরণ। প্রযুক্তি দুটির মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির প্রযুক্তিটি অধিক নির্ভরযোগ্য। ক্লাসে উপস্থিতিরর জন্য ফিংগার প্রিন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ডিভাইসের দাম কম তাই এই পদ্ধতি ব্যবহারের খরচ তুলনামূলক কম কিন্তু সফলতার হার প্রায় শতভাগ। কারণ প্রত্যেক মানুষের ফিংগার প্রিন্ট সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং সারা জীবন অপরিবর্তিত থাকে।

অপরদিকে ICT ল্যাবে প্রবেশের জন্য আইরিশ এবং রেটিনা স্ক্যান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তুলনামূলকভাবে বেশি মেমোরি প্রয়োজন হয়। চোখের চশমা ব্যবহার করে এই পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ করা যায় না ফলে ডিভাইস ব্যবহার করার সময় চশমা খোলার প্রয়োজন হয়। অনেকে মনে করেন এই পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে চোখের ক্ষতিও হয়। ক্যামেরার সামনে আলোর পর্যাপ্ততার উপরও শনাক্তকরণ নির্ভরশীল।

ময়মনসিংহ বোর্ড-২০২৩
(ক) উত্তরঃ টেকনোলজির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।

(খ) উত্তরঃ আচরণের মাধ্যমে ব্যক্তি শনাক্তকরণ পদ্ধতি হলো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির একটি মাধ্যম যেখানে কোনো ব্যক্তির আচরণগত বৈশিষ্ট্যের (যেমন: কণ্ঠস্বর, হাতের স্বাক্ষর এবং কী-বোর্ড টাইপিং) উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা হয়। কোনো ব্যক্তির আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো ইনপুট ডেটা হিসেবে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। যেমন কন্ঠস্বর শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে ব্যহারকারীর কণ্ঠস্বরকে মাইক্রোফোনের মাধ্যমে ধারণপূর্বক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর সাহায্যে ইলেকট্রিক সিগন্যালে রূপান্তর করে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সংরক্ষিত কন্ঠস্বর আচরণিক ডেটার সাথে মিলিয়ে ব্যক্তি শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

(গ) উত্তরঃ হিমেল ড্রাইল্যাবে জৈবসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বায়োইনফরমেটিক্স প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। কম্পিউটার সফটওয়্যার ও পরিসংখ্যানগত কৌশল ব্যবহার করে জৈব ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জৈব গবেষণায় ব্যবহৃত একটি উন্নত পদ্ধতিকে বলে বায়োইনফরমেটিক্স। এতে জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত পবেষণা (আণবিক পর্যায়সহ) ও সমস্যাদি উদঘাটনের জন্য ফলিত গণিত, তথ্যবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন ও জৈব রসায়ন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বায়োইনফরম্যাটিক্স এর প্রয়োগক্ষেত্র হলো নিম্নরূপ:

মূলত জৈবিক পদ্ধতি-বিশ্লেষণ সম্পর্কে সম্যক এবং সঠিক ধারণা অর্জন করার ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়। আর এই জৈবিক তথ্য হিসাব-নিকাশ এবং এ সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহারও অপরিহার্য। তবে জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন সিকোয়েন্স ইত্যাদি গঠন উপাদানের ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ গঠনে কম্পিউটার প্রযুক্তি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও মলিকুলার মেডিসিন, জিনথেরাপি, ওষুধ তৈরিতে, বর্জ্য পরিষ্কারকরণে, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণায়, বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, ডিএনএ ম্যাপিং ও অ্যানালাইসিস, জিন ফাইন্ডিং, প্রোটিনের মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণে বায়োইনফরমেটিক্স ব্যবহৃত হয়।

(ঘ) উত্তরঃ হিমেল ও তার বন্ধুর একটি কক্ষে অবস্থান করে মহাশূন্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতালাভে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভার্চুয়াল রিয়েলিটির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। প্রকৃত অর্থে বাস্তব নয় কিন্তু বাস্তবের চেতনা উদ্রেককারী বিজ্ঞান নির্ভর কল্পনাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বলে। প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ভূমিকা নিচে দেওয়া হলোঃ

বিনোদন ক্ষেত্রেঃ নানা ধরনের বিনোদনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাথে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ত্রিমাত্রিক পদ্ধতিতে নির্মিত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নির্ভর কল্পকাহিনি, পৌরাণিক কাহিনি, কার্টুন, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ইত্যাদি মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

যানবাহন চালানো ও প্রশিক্ষণ: ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সবচেয়ে বাস্তবমুখী ব্যবহার হয়ে থাকে ফ্লাইট সিমুলেটরে যেখানে বৈমানিকরা বাস্তবে আসল বিমান উড্ডয়নের পূর্বেই বিমান পরিচালনার বাস্তব জগৎকে অনুধাবন করে থাকেন। এ ছাড়াও মোটরগাড়ি, জাহাজ ইত্যাদি চালানোর প্রশিক্ষণে সংশ্লিষ্ট সিমুলেটর ও মডেলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ-সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবের ন্যায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।

শিক্ষা ও গবেষণায়: শিখন-শেখানো কার্যক্রমে জটিল বিষয়গুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিমুলেশন ও মডেলিং করে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য ও চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপন করা যায়। গবেষণালব্ধ ফলাফল বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন, জটিল অণুর আণবিক গঠন, ডিএনএ গঠন যা কোনো অবস্থাতেই বাস্তবে অবলোকন সম্ভব নয় সেগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখা সম্ভব হচ্ছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সুবৃহৎ পরিসরে এর ব্যবহার ব্যাপক। জটিল অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে, ডিএনএ পর্যালোচনা ইত্যাদিসহ নবীন শল্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও রোগ নির্ণয়ে ব্যাপক হারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহৃত হয়।

ব্যবসা বাণিজ্যে: উৎপাদিত কিংবা প্রস্তাবিত পণ্যের গুণগত মান, গঠন, বিপণন, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন, বিপণন কর্মী প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সব ধরনের কার্যক্রমে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। কোনো বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর দ্রব্য বাজারজাত করার আগে কোনো কর্মচারীর জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশে সেগুলো পরীক্ষা করে নেওয়া সম্ভব হয়।

Comments