যোগাযোগ (Communication)
যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তি পরস্পরের সাথে কম খরচে দ্রুত গতিতে যোগাযোগ করতে পারে তাকে যোগাযোগ প্রযুক্তি বলে।
বর্তমানে যোগাযোগ ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগ প্রযুক্তির সংমিশ্রণ সড়কপথ, রেলপথ, জলপথ এবং
আকাশপথে যোগাযোগের ব্যবস্থাকে করেছে সহজ, দ্রুততর এবং লাভজনক। ফলে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় রোধ হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সংরক্ষিত হচ্ছে।
টেলিফোন, ফ্যাক্স, টেলিভিশন, টেলিপ্রিন্টার, কম্পিউটার, ই-মেইল ইত্যাদি যোগাযোগ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান যুগে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে
তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষণীয়। কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিচালিত ট্রাফিক লাইট সকল সড়কের সাথে সমন্বয় করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ডেটা কমিউনিকেশন বা
তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট, ই-কমার্স ইত্যাদির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, টেলিকমিউনিকেশন, ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন ব্যবস্থায়
এ প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার সাহায্যে অফিস-আদালত, বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করেছে।
গাড়ি চালানোর ক্ষেত্র ছাড়াও বর্তমানে গাড়ি মনিটরিং ও নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি ভ্যাহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে এ কাজটি করছে। ভ্যাহিক্যাল ট্র্যাকিং ইউনিট একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (IPS) ব্যবহার করে যেকোনো চলমান যানবাহনের নির্ভুল অবস্থান, গতিবেগ, গতিপথ ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়। এসব তথ্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে জানা যাবে।
ভ্যাহিক্যাল ট্র্যাকিং ইউনিটের দুটি অংশ থাকে। অংশ দুটি হলো- GPS (Global Positioning System) এবং GS (Global System for Mobile Communications)। এর মধ্যে GPS অংশ স্যাটেলাইট থেকে প্রতিনিয়ত তথ্য গ্রহণ কর সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে GPS রিসিভারগুলো তথ্য গ্রহণ ও তা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা প্রদান করে থাকে।
এয়ার লাইনের টিকেট বিক্রয়ের সঠিক নিয়ন্ত্রণ এখন সারা বিশ্বে কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হচ্ছে। এজন্য সকল টিকেট বুকিং স্টেশনকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে যেকোনো যাত্রী যেকোনো স্টেশন থেকে টিকেট বুকিং করার পর এয়ার লাইনের সকল বুকিং সেন্টারে সেই তথ্য চলে যাচ্ছে। তাছাড়া যেকোনো এয়ার লাইনের নির্ধারিত ফ্লাইটের আগমন ও উড্ডয়নের খবর বিমান বন্দরে পৌঁছার সাথে সাথে সকল বুকিং স্টেশনে সহজেই পৌঁছে যায়। বর্তমানে রেলওয়ের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা
চালু আছে।
যোগাযোগ ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সেবাসমূহ:
বর্তমান যুগকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ বলা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে যোগাযোগ ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হচ্ছে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য সেবাসমূহ হলো-
=> মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রেলওয়ের টিকেট ক্রয়।
=> স্টেশনভিত্তিক অনলাইন যাত্রীসেবা।
=> ওয়েবসাইটভিত্তিক ট্রেন ও বাসের ভাড়া ও সময়সূচি
সংক্রান্ত তথ্যাবলি।
=> ডিটিসিবি কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর বাসে ই-টিকেটিং সিস্টেম ও ID Card এর মাধ্যমে যাত্রীসেবা প্রদান।
=> স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সার্ভিসের জন্য গুগল বাস চালু।
=> ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দরপত্র বিজ্ঞপ্তিসমূহ অবলোকন।
=> ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ফর্ম ডাউনলোড পদ্ধতি।
=> ওয়েবসাইটভিত্তিক বিভিন্ন ট্যাক্স ও ফি সংক্রান্ত তথ্যাবলি।
=> অনলাইনে জরিপ ও মতামত প্রদান।
=> মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু/নবায়ন এবং এ সংক্রান্ত ফি নির্ধারণ, আদায় ও সরকারি খাতে জমাকরণ পদ্ধতি অনলাইনভিত্তিক করা।
=> ই-গভর্নেন্স এর মাধ্যমে অফিস ব্যবস্থাপনাসহ যোগাযোগ ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে আশানুরূপ অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আবিষ্কার ও ব্যবহারের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিনে দিনে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসায় বাণিজ্য, যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় সড়কপথ, রেলপথ, জলপথ, আকাশপথের মাধ্যমে দ্রুত যেকোনো দেশের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।
নিচে এ ধরনের কিছু প্রযুক্তির ব্যবহার (যেমন- টেলিকনফারেন্সিং, ভিডিও কনফারেন্সিং, বুলেটিন বোর্ড, এক্সপার্ট সিস্টেম,
রিজার্ভেশন সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) নিয়ে আলোচনা করা হলো:
টেলিকনফারেন্সিং (Teleconferencing):
ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানকে টেলিকনফারেন্সিং বলে।
তাছাড়া টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে সভা-সমাবেশ করাকেও টেলিকনফারেন্সিং বলা যায় এবং এ সভাকে টেলিকনফারেন্স বলে।
১৯৭৫ সালে মরি টারফ এ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। টেলিকনফারেন্স এর জন্য টেলিফোন সংযোগ, কম্পিউটার, অডিও যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়।
বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো ব্যক্তিই টেলিফোন মাধ্যম ব্যবহার করে টেলিকনফারেন্স করতে পারেন। এ ব্যবস্থায় সভায় অংশগ্রহণকারীরা কী বোর্ডের মাধ্যমে
কেন্দ্রীয় কম্পিউটারে তাদের বক্তব্য বা জবাব পাঠায়। বিভিন্ন ধরনের টেলিকনফারেন্স ব্যবস্থা আছে। যেমন- পাবলিক কনফারেন্স, ক্লোজড কনফারেন্স ও রিড অনলি কনফারেন্স ইত্যাদি।
পাবলিক কনফারেন্স সকলের জন্য উন্মুক্ত, পাসওয়ার্ড প্রটেকটেড নয়। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্লোজড কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করা যায়।
রিড অনলি কনফারেন্স-এ শুধুমাত্র কার্যবিবরণী দেখা যায়, এমনকি অংশগ্রহণকারীর মন্তব্য বার্তা আকারে পেশ করা যায়। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও বর্তমানে টেলিকনফারেন্সিং ব্যবহৃত হচ্ছে।
জেনে রাখা ভালোঃ মরি টারফ-এর টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থায় প্রথমে টেলিফোনের অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মাধ্যমে ডেটা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে পাঠানো হয়।
সেখান থেকে মাইক্রোওয়েভ লিঙ্কের মাধ্যমে ভিস এন্টেনা হয়ে ডেটা সংকেত
কৃত্রিম উপগ্রহে চলে যায়। গ্রাহক স্টেশন সে সংকেত গ্রহণ করে অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে প্রাপকের কাছে পৌছায়।
টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসক, ছাত্র-শিক্ষক, গবেষকসহ কর্পোরেট অফিসগুলো কর্মকর্তাদের সাথে পরস্পর মত বিনিময় করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
ভিডিও কনফারেন্সিং (Video Conferencing):
টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও এবং ভিডিও এর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে।
এ ব্যবস্থায় কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের ছবি দেখতে এবং কথোপকথন করতে পারেন। বর্তমানে ব্যবসায়-বাণিজ্য ছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ পদ্ধতিতে দূরে অবস্থানরত কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে রোগী সরাসরি কথা বলতে পারেন।
ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে ক্লাসের পড়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। কম্পিউটারে সাধারণত ভিডিও কনফারেন্সিং স্থাপন করতে হলে যেসব উপাদান প্রয়োজন হয় তা হলো-
ওয়েব ক্যামেরা, ভিডিও ক্যাপচার কার্ড, সাউন্ড কার্ড, স্পীকার, মাইক্রোফোন, মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটার, মডেম, টেলিফোন লাইন/ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি।
উক্ত উপাদানগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার হিসেবে Microsoft Net Meeting, Skype, Yahoo Messenger, imo, Whats Apps ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
তবে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে ভিডিও কনফারেন্সের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ ও সফটওয়্যার ছাড়া তেমন কিছুর প্রয়োজন হয় না।
প্রফেশনাল ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমের জন্য বিশেষায়িত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার পাওয়া যায়।
বর্তমানে আমাদের দেশে ভিডিও কনফারেন্সিং এর জন্য Messenger, Viber, Skype ও imo খুবই জনপ্রিয়।
টেলিকনফারেন্সিং (Teleconferencing) ও ভিডিও কনফারেন্সিং (Video Conferencing) এর মধ্যে পার্থক্য:
| টেলিকনফারেন্সিং (Teleconferencing) | ভিডিও কনফারেন্সিং (Video Conferencing) |
| ১. টেলিকনফারেন্সিং হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া। | ১. ভিডিও কনফারেন্সিং হলো টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি। ব্যবহার করে দুই বা ততোধিক ভৌগোলিক অবস্থানে অডিও এবং ভিডিওর যুগপৎ উভমুখী স্থানান্তরের প্রক্রিয়া। |
| ২. এ ব্যবস্থায় কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীরা শুধু প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে কথোপকথন করতে পারেন। | ২. এ ব্যবস্থায় কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের ছবি দেখতে পারে এবং কথোপকথন করতে পারেন। |
| ৩. এ ব্যবস্থায় টেলিফোন সংযোগ, কম্পিউটার, অডিও যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। | ৩. এ ব্যবস্থায় ওয়েব ক্যামেরা, ভিডিও ক্যাপচার কার্ড, সাউন্ড কার্ড, স্পীকার, মাইক্রোফোন, মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটার, মডেম, টেলিফোন লাইন/ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। |
| ৪. টেলিফোন বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে খুব সহজেই টেলিকনফারেন্সিং করা যায়। | ৪. ভিডিও কনফারেন্সিং এর জন্য Messenger, Skype ও imo ব্যবহার খুবই জনপ্রিয়। |
জেনে রাখা ভালোঃ ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি বর্তমানে টেলিমেডিসিন সার্ভিসে ব্যবহৃত হচ্ছে। টেলিমেডিসিন সার্ভিসে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ডাক্তার ও রোগী পরস্পরকে দেখে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন।
তাছাড়া অপারেশনের মতো জটিল কাজেও ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
বুলেটিন বোর্ড (Bulletin Board):
ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন প্রদানের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা যাতে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের সাথে অন্যান্য কম ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করার পদ্ধতিকে
বুলেটিন বোর্ড বলে।
এটি কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, তথ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজ করে থাকে।
বুলেটিন বোর্ড অফিস, কলেজ, মার্কেট অথবা জনসমাবেশ স্থানে বিভিন্ন সংবাদ, নিজস্ব তথ্যাদি, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রচার করে থাকে। কম্পিউটার বুলেটিন বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংরক্ষিত থাকে।
বিমান বন্দরে কোনো বিমান কখন আসবে এবং কোনো বিমান কখন কোন দেশের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে তা বুলেটিন বোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। বুলেটিন বোর্ডে সংবাদও সংযোজন করা যায়।
এজন্য বুলেটিন বোর্ডের কম্পিউটার সবসময় সচল রাখতে হয়। এ ধরনের যোগাযোগের জন্য বিশেষ সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়।
বুলেটিন বোর্ডকে সচল রাখার জন্য টেলিফোন লাইন বা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত রাখতে হয়। ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এতে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়।
অনেক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে নির্দিষ্ট ফি-র বিনিময়ে গ্রাহকদের বুলেটিন বোর্ড ব্যবহার করতে দেয়। এ ধরনের বুলেটিন বোর্ড বিজ্ঞাপন, ব্যক্তিগত সংবাদ, মজার কার্টুন ইত্যাদি প্রচার করে থাকে।
এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System):
কম্পিউটার বিশাল তথ্য ধারণ করতে পারে এবং দ্রুততার সাথে বিশাল তথ্য থেকে যেকোনো তথ্য খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। কোনো বিষয়ের উপর বিশাল তথ্য সংগ্রহ করে ঐ বিষয়ের উপর যেকোনো প্রশ্ন করে কম্পিউটার থেকে জেনে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে অর্থাৎ কম্পিউটারকে যেকোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা এক্সপার্ট করা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থাকে এক্সপার্ট সিস্টেম বলে।
এজন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অনেকগুলো মাইক্রোপ্রসেসর ও চিপ ব্যবহার করে প্রোগ্রামিং-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা হয়। বর্তমানে মানুষের মতো কাজ করার জন্য এক্সপার্ট সিস্টেম তৈরি করার কাজ চলছে। রোগ নিরাময়ে, বিভিন্ন ডিজাইনের ত্রুটি সংশোধনে,
জেট বিমান চালনায় পরিকল্পনা ও সিডিউল তৈরি, ভূ-বিজ্ঞানীর তেল অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক্সপার্ট সিস্টেমের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। এক্সপার্ট সিস্টেম একজন দক্ষ মানুষের সমতুল্য, কিন্তু বিকল্প হতে পারে না। এটি একজন দক্ষ মানুষের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করে থাকে মাত্র।
এক্সপার্ট সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য:
> প্রেগ্রামে ভুল না থাকলে এক্সপার্ট সিস্টেম কাজ করতে কোনো ভুল করে না।
=> এটি একজন দক্ষ মানুষের সমতুল্য বা সাহায্যকারী হিসাবে কাজ করে মাত্র কিন্তু বিকল্প হতে পারে না।
=> এটি একজন দক্ষ মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির সাহায্যে তৈরি করা প্রোগ্রাম দিয়ে পরিচালিত হলেও অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের থেকে দ্রুত গতিতে কাজ করে থাকে।
বিভিন্ন প্রকার এক্সপার্ট সিস্টেমের কর্মপরিধি:
> Molgen: এটি একটি নলেজ বেইজড এক্সপার্ট সিস্টেম।
=> Internist: মেডিক্যাল সিস্টেমে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতো চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানে সক্ষম এবং
নির্ভুলভাবে জটিল রোগের সার্জারি করতে পারে।
=> Cadulus এবং Mycin: একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মতো চিকিৎসা পরামর্শ প্রদানে সক্ষম।
=> Mycsyma : গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা।
=> Dendral: এটি সর্বপ্রথম নলেজ বেইজড এক্সপার্ট সিস্টেম যার দ্বারা প্রোগ্রামিং শেখার কাজ সহজ হয়।
=> Prospector: এটি খনিজ সম্পদ ও আকরিক পদার্থ অনুসন্ধান করার এক্সপার্ট সিস্টেম।
=> Denoral: এটি পদার্থের আণবিক গঠন জানার জন্য ব্যবহৃত হয়।
=> RI: এই এক্সপার্ট সিস্টেম কম্পিউটার ডিজাইনারদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
=> Deep blue: এটি দাবা খেলা ও দাবা খেলায় বিচারক হিসেবে ব্যবহৃত এক্সপার্ট সিস্টেম।
এক্সপার্ট সিস্টেমের ব্যবহার:
=> রোগীর রোগ নির্ণয়ে,
=>যাত্রীবাহী বা যুদ্ধ বিমান চালনায়,
=> বিভিন্ন সার্কিট ডিজাইনে ,
=> ত্রুটি সংশোধনে পরিকল্পনা ও সিডিউলিং নির্ধারণে ,
=> ভূ-গর্ভস্থ প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানে,
=> গাড়ির গতির সাথে মিল রেখে গিয়ার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে,
=> শেয়ার বাজারের লেনদেন ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায়,
=> দাবা ও অন্যান্য খেলায় বিচারক হিসেবে এক্সপার্ট সিস্টেমের বহুল ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
রিজার্ভেশন সিস্টেম (Reservation System):
রিজার্ভেশন সিস্টেম হলো ইলেকট্রনিক উপায়ে আসন বিন্যস্ত করা। এ ধরনের সিস্টেমে কম্পিউটার, মডেম, ইন্টারনেট, টেলিফোন লাইনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে হোটেল, বিমান, ট্রেন, বাস ইত্যাদিতে সিট রিজার্ভেশনের জন্য এ ধরনের সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। ফলে অতি সহজেই রিজার্ভেশন সুবিধা পাওয়া যায়। রিজার্ভেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। বিমান, রেলওয়ে, হোটেল ইত্যাদিতে সিট খালি আছে কি-না তা জানা যায়। যেমন- বিমান অফিসের যাবতীয় তথ্য কম্পিউটারে রক্ষিত থাকে এবং কম্পিউটারগুলো নেটওয়ার্কভুক্ত। ফলে যেকোনো যাত্রী বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিট সংরক্ষণ করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় রোধ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের SABRE (Semi Automated Business Research Environment) সিস্টেম বিমানের সিট রিজার্ভেশনের জন্য ব্যবহৃত এমন একটি পদ্ধতি। বাংলাদেশ বিমানেও নেটওয়ার্ক ভিত্তিক রিজার্ভেশন সিস্টেম চালু আছে। আমাদের দেশেও বিভিন্ন রেলওয়ের কাউন্টারগুলোতে এ সিস্টেম প্রচলিত আছে।
ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (Electronic Fund Transfer):
আধুনিক কম্পিউটার ব্যবস্থায় টেলিফোন ও ডেটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা যায়। এ পদ্ধতিকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বলে। এ ব্যবস্থায় প্রকৃত অর্থের আদান-প্রদান ঘটে না, শুধু হিসাবের মাধ্যমে অর্থের পরিমাণ সমন্বয় সাধন ও আধুনিকীকরণ করা হয়। এ ব্যবস্থায় ব্যাংকে না গিয়েও ব্যাংকের সাথে সবধরনের লেনদেন সম্ভব। কম্পিউটারবিহীন ব্যাংক ব্যবস্থায় চেকের মাধ্যমে গতানুগতিকভাবে এক একাউন্টের টাকা অন্য ব্যাংকের একাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এতে লেনদেন প্রক্রিয়ায় অনেক সময়ের অপচয় হয়। লেনদেন নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাংকে Automated Teller Machine (ATM) চালু আছে। চৌম্বক কালির রেখাবিশিষ্ট কার্ড অটোমেটেড টেলার মেশিনে প্রবেশ করিয়ে একজন একাউন্ট হোল্ডার যেকোনো দূরবর্তী স্থান থেকে ব্যাংকিং সুবিধা পেতে পারেন। এ সকল টেলার মেশিনের সাথে ব্যাংক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। ATM কার্ড উক্ত মেশিনে প্রবেশ করিয়ে এর ছোট কী-প্যাডের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে অর্থ ট্রান্সফার বা উত্তোলন করা যায়। ফান্ড ট্রান্সফার সঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে বেশির ভাগ ব্যাংকে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে।
ডিজিটাল টেলিফোন (Digital Telephone):
ডিজিটাল ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল টেলিফোন সার্ভিস ও সিস্টেমের সুবিধা সংবলিত ফোনই ডিজিটাল
টেলিফোন। ১৯৬০ সালে কোর নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়ে অ্যানালগ টেলিফোনের স্থান দখল করে ডিজিটাল টেলিফোন। ডিজিটাল টেলিফোনে অল্প খরচে কথা বলা যায় এবং দ্রুততার সাথে ডিজিটাল সুবিধা নিয়ে টেলিফোন লাইনে ডেটা পাঠানো যায়। ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থায় PSTN (Public Switched Telephone Network) এর ধারণক্ষমতা ও গুণগত মান উন্নয়ন কাজ সমান গতিতে এগিয়ে চলছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে গ্রাহকরা ডিজিটাল টেলিফোনের প্রতি ক্রমশ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
ডিজিটাল টেলিফোনের সুবিধা:
এক সময় অ্যানালগ টেলিফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হতো। বর্তমানে ব্যবহৃত সকল টেলিফোনই ডিজিটাল ফোন। এ
ফোনের অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন-
=> অ্যানালগ ফোনের চেয়ে ডিজিটাল টেলিফোনের দক্ষতা অনেক বেশি।
=>ডিজিটাল সিস্টেম RF (Radio Frequency) ট্রান্সমিটারের পাওয়ারকে হ্রাস করে।
=>আন্তর্জাতিক ও ওয়াইড এরিয়ার রোমিং সুবিধা বেশি।
=>পরিবেশ বান্ধব ও দীর্ঘ সময় ব্যবহারেও নষ্ট হয় না।
=>এর নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি অনেক বেশি।
=>খরচ অনেক কম।
মোবাইল ফোন (Mobile Phone):
যোগাযোগের আরেকটি সহজ মাধ্যম হলো মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন বা সেলুলার ফোন বা হ্যান্ড ফোন (ইংরেজি: Mobile phone) তারবিহীন টেলিফোন বিশেষ।
মোবাইল অর্থ 'ভ্রাম্যমাণ' বা 'স্থানান্তরযোগ্য'। এ ফোন সহজে যেকোনো স্থানে বহন করা এবং ব্যবহার করা যায় বলে মোবাইল ফোন নামকরণ করা হয়েছে। এটি ষড়ভুজ আকৃতির ক্ষেত্র বা এক একটি সেল নিয়ে কাজ করে বলে এটি 'সেলফোন' নামেও পরিচিত।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেকোনো স্থানে বসেই যেকোনো ব্যক্তির সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা যায়। মোবাইল ফোন বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বলে অনেক বড় ভৌগোলিক এলাকায় এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযোগ দিতে পারে। শুধু কথা বলাই নয়, আধুনিক স্মার্ট মোবাইল ফোন দিয়ে আরও অনেক সেবা গ্রহণ করা যায়।
এর উদাহরণ হচ্ছে খুদে বার্তা হিসেবে এসএমএস বা শর্ট মেসেজ সার্ভিস, এমএমএস বা মাল্টিমিডিয়া মেসেজ সার্ভিস, ই-মেইল, ইন্টারনেট, অবলোহিত আলো বা ইনফ্রারেড, ব্লু-টুথ, ক্যামেরা, গেমিং, ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক ব্যবহারিক সফটওয়্যার ইত্যাদি।
যেসব মোবাইল ফোন এসব সেবা এবং কম্পিউটারের সাধারণ কিছু সুবিধা প্রদান করে, তাদেরকে স্মার্ট ফোন বলা হয়।
মোবাইল ফোনের প্রথম বাণিজ্যিক সংস্করণ বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে, ফোনটির নাম ছিল মোটোরোলা ডায়না টিএসি ৮০০০ এক্স (DynaTAC 8000x)। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পৃথিবীব্যাপী মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২.৪ মিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ বিলিয়নের বেশি হয়ে গেছে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যর প্রায় ৮৭% মোবাইল ফোন যোগাযোগের আওতায় এসেছে। BTRC এর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির হিসাব মতে ১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ১৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৮৭ হাজার লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।
ইলেক্ট্রনিক মেইল (Electronic Mail)
Electronic Mail কে সংক্ষেপে E-Mail বলা হয়। কম্পিউটার বা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে একজন বার্তা প্রেরকের নিকট হতে এক বা একাধিক প্রাপকের কাছে কোনো বার্তা বা ডিজিটাল মেসেজ বিনিময়ের পদ্ধতিকে ই-মেইল বলে।
চিঠির ডিজিটাল সংস্করণ হলো ই-মেইল। লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সীমিত স্থানের মধ্যে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারাবিশ্বে যেকোনো স্থানে ই-মেইল পাঠানো যায়।
ই-মেইল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো হলো কম্পিউটার, মডেম, টেলিফোন লাইন বা ইন্টারনেট সংযোগ ও কমিউনিকেশন সফটওয়্যার। ডাকযোগে চিঠি পাঠাতে যেমন ঠিকানার প্রয়োজন, ঠিক তেমনি
কম্পিউটারে ই-মেইল পাঠানোর জন্য একটি ই-মেইল ঠিকানার প্রয়োজন হয়। ই-মেইল অ্যাড্রেসের দুটি অংশ থাকে। প্রথম অংশটি হলো ব্যবহারকারীর পরিচিতি
এবং দ্বিতীয় অংশটি হলো ডোমেইন নাম। যেমন- abc2017@yahoo.com। এখানে abc2007 হলো ব্যবহারকারীর পরিচিতি এবং yahoo.com হলো ব্যবহারকারীর ডোমেইন নাম।
ই-মেইল হচ্ছে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি।
ই-মেইলের জনক রে টমলিনসন। তিনি সর্বপ্রথম আরপানেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ই-মেইল প্রেরণ করেন। ই-মেইলে তিনি @ চিহ্ন ব্যবহার করেন।
ই-মেইল আদান-প্রদানের জন্য কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সফটওয়্যার হলো- Windows Explorer, Netscape, Eudora, Outlook Express, Mozilla Firefox, Google Chrome ইত্যাদি।


Comments