বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ (Elements for establishing Global Village):

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বগ্রামের ধারণা সহজেই বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
যেসব ডিভাইস ও উপাদানসমূহ দ্বারা বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠিত সেগুলো হলো-
১. হার্ডওয়্যার, ২. সফটওয়্যার, ৩. ডেটা, ৪. মানুষের জ্ঞান ও ৫. ইন্টারনেট সংযুক্ততা।

১. হার্ডওয়্যার (Hardware): বিশ্বগ্রামে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য হার্ডওয়্যার ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের হার্ডওয়্যার সংশ্লিষ্ট উপাদান হলো- কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, মডেম, রাউটার, হাব, সুইচ, গেটওয়ে, রেডিও, টেলিভিশন, স্যাটেলাইট ইত্যাদি।

২. সফটওয়্যার (Software): কম্পিউটার বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য এবং যন্ত্রপাতিকে সচল রাখার জন্য সফটওয়্যার প্রয়োজন। বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম (যেমন- উইন্ডোজ, লিনাক্স, এন্ড্রয়েড ), ব্রাউজার (যেমন- মজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, অপেরা মিনি, ইত্যাদি) এছাড়াও বিভিন্ন প্রগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ওয়েব পেজ, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়‍্যার ইত্যাদি সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. ডেটা (Data): ডেটা হলো তথ্যের উপাদান, যা দ্বারা একক কোনো ধারণা বুঝায়। বিশ্বগ্রামে ডেটা প্রসেসিং করে তথ্যে পরিণত করা হয়। এটি বর্ণ, অঙ্ক, শব্দ, টেক্সট, ইমেজ, অডিও, ভিডিও, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি ধরনের হতে পারে।
প্রধানত তিনটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমের কার্যকারিতা নির্ভর করে। যথা-
• বিতরণ বা ডেলিভারি (Delivery): সিস্টেমকে অবশ্যই ঠিক প্রান্তে ডেটা ডেলিভারি করতে হবে।
• সঠিকতা বা অ্যাকিউরেসি (Accuracy): সিস্টেমকে অবশ্যই সঠিকভাবে ডেটা ডেলিভারি করতে হবে।
• সময় নির্ধারণ বা টাইমলাইনস (Timeliness): সিস্টেমকে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে ডেটা ডেলিভারি করতে হবে।

৪. মানুষের জ্ঞান বা সক্ষমতা (Human Knowledge/ Capacity): তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে মানুষের সচেতনতা, স্বাক্ষরতা ও সক্ষমতা তৈরিতে বিশ্বগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করে রোবট দ্বারা বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে।

৫. ইন্টারনেট সংযুক্ততা (Internet Connectivity): বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড হলো নিরাপদভাবে রিসোর্স শেয়ার করার নেটওয়ার্ক বা কানেকটিভিটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন উপাত্ত ও তথ্য বিশ্বগ্রামের প্রতিটি মানুষের নিকট পৌঁছাতে পারে। নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানই হচ্ছে বিশ্বাগ্রামের মূল লক্ষ্য। নিরাপদ তথ্য প্রদানের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বা কানেকটিভিটি। কানেকটিভিটির মাধ্যমে মানুষ যখন যেখানেই অবস্থান করুক না কেন সবসময়ই মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকতে পারছে। বিশ্বের তথ্যভাণ্ডারের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে বা প্রয়োজনে সংযুক্ত থেকে তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য কানেকটিভিটি মূল ভূমিকা পালন করে। ব্রডকাস্টিং, টেলিকমিউনিকেশন এবং ইন্টারনেট কানেকটিভিটির মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।


> বিশ্বগ্রামের সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ।

Comments